মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে "চালাবে", যা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযানের পর দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়, মাদুরোর গোপন আস্তানাকে লক্ষ্য করে ডেল্টা ফোর্সের অভিযানের পর।
এই মন্তব্যটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর এর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, মাদক পাচারকে লক্ষ্য করে এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করছে, যা সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের অভিযানের জল্পনা তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলা বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা অতিমুদ্রাস্ফীতি, মৌলিক পণ্যের অভাব এবং ব্যাপক অভিবাসন দ্বারা চিহ্নিত। মাদুরোর সরকার স্বৈরাচার, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ থেকে আন্তর্জাতিক নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা এসেছে। ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দেশটির প্রতি গভীর আগ্রহ বজায় রেখেছে।
একটি জাতির অন্য জাতিকে "চালানো"র ধারণা ঔপনিবেশিকতাবাদ এবং হস্তক্ষেপবাদের সাথে ঐতিহাসিক সাদৃশ্য তৈরি করে, যা ল্যাটিন আমেরিকায় নব্য উপনিবেশবাদ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ইতিহাস বিতর্কিত, যার মধ্যে শীতল যুদ্ধের সময় অভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারী শাসনের প্রতি সমর্থনও রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। মাদুরোর অপসারণের ফলে সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা আরও অস্থিরতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের জন্ম দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কিছু দেশ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিদেশী হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ গঠনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্ভবত আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলোতে তীব্র পর্যবেক্ষণ ও বিতর্কের বিষয় হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment