দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সোমবার বেইজিংয়ে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন, চীনের সাথে উত্তেজনাকর সম্পর্ক মেরামত করার জন্য, যা দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। নভেম্বরে শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়া সফরের পর এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন। এই সাক্ষাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির উপর চীনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
লিয়ের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে, বিশেষ করে তাইওয়ান নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিও তাইওয়ানের উপর চীনা হামলার ঘটনায় তার আত্মরক্ষা বাহিনী দিয়ে সাড়া দিতে পারে এমন পরামর্শ দেওয়ার পর বেইজিং জাপানের সমালোচনা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লি চীনের কাছ থেকে এই আশ্বাস চাইছেন যে তারা এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সিউল এই সম্পর্কের কোনো প্রকার অস্ত্র ব্যবহার এড়াতে আগ্রহী।
জাপানের মতো দক্ষিণ কোরিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, যা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উভয়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটিকে একটি নাজুক অবস্থানে ফেলেছে। কোরীয় যুদ্ধের উত্তরাধিকার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং এই জোটটি এই অঞ্চলে মার্কিন কৌশলের ভিত্তিস্তম্ভ।
এই বৈঠকটি পূর্ব এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে তুলে ধরে, যেখানে অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা ঐতিহাসিক ক্ষোভ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের সাথে জড়িত। এই শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment