স্থানীয় কর্মকর্তাদেরের মতে, কিয়েভে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে রাশিয়ার হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাতের বেলা হওয়া এই হামলার কারণে ক্লিনিক থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আক্রান্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের ধরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে হামলার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করছে এবং ক্লিনিকের কার্যক্রম ও সেবা প্রদানের ক্ষমতার উপর এর সম্পূর্ণ প্রভাব মূল্যায়ন করছে। আহতদের কাছাকাছি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কিয়েভ এবং অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে এই হামলাটি সর্বশেষ সংযোজন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন চিকিৎসা কেন্দ্র এবং কর্মীদের উপর হামলা নিষিদ্ধ করে। রোম সংবিধির অধীনে এই ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বেসামরিক অবকাঠামোতে বারবার হামলার ঘটনা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক আইন এবং সামরিক অভিযানে পার্থক্য ও আনুপাতিকতার নীতি মেনে চলা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই হামলায় কিয়েভের ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবার উপর আরও চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর ধ্বংসের কারণে সংঘাত-সম্পর্কিত আঘাত এবং অন্যান্য চিকিৎসা অবস্থার চিকিৎসা করার ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে। চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে চিকিৎসা পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাও প্রভাবিত হয়, যা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনীয় সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সশস্ত্র সংঘাতের সময় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কর্মীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত সঠিক গোলাবারুদ নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির মূল্যায়ন অব্যাহত রাখায় আরও তথ্য জানার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment