সারা বিশ্বের সাম্প্রতিক ডক্টরাল স্নাতকেরা চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগ ও আশার মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করছেন। কোভিড-১৯ অতিমারীর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এই পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। নেচার কর্তৃক পরিচালিত একটি সমীক্ষা, যা পূর্বে উত্তর আমেরিকা, ইসরায়েল এবং যুক্তরাজ্যকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল, এখন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চীনের পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সমীক্ষার লক্ষ্য হল এই স্নাতকদের কর্মজীবনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে এমন বৈশ্বিক কারণগুলো বোঝা।
গত বছর পরিচালিত প্রাথমিক সমীক্ষায়, মার্কিন বিজ্ঞান বিষয়ক তহবিলে বড় ধরনের कटौती, গাজায় যুদ্ধ এবং অতিমারীর কারণে পিএইচডি প্রকল্পের চলমান বিলম্বের মতো বিষয়গুলোর কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাকরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এই উদ্বেগ সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ক্ষেত্রে থাকার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিস্তৃত এই সমীক্ষার লক্ষ্য হল অতিমারী কীভাবে কর্মজীবনের পথকে প্রভাবিত করে চলেছে, সে বিষয়ে আরও ব্যাপক ধারণা দেওয়া।
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউনহি কিম, কেন কিছু টিউমার অন্যদের চেয়ে ইমিউনোথেরাপির প্রতি ভালো সাড়া দেয়, তা নিয়ে তার গবেষণা শেষ করছেন। কিমের অভিজ্ঞতা অনেক ডক্টরাল প্রার্থীর মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোকেই প্রতিফলিত করে, যাদের গবেষণা লকডাউন এবং ল্যাব বন্ধ থাকার কারণে ব্যাহত হয়েছে। এই ব্যাঘাতগুলো কেবল প্রকল্পের সমাপ্তিকেই বিলম্বিত করেনি, বরং নেটওয়ার্কিং এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকেও প্রভাবিত করেছে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট জটিলতার স্তর যোগ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কিছু দেশে, অতিমারীর আগেও একাডেমিক পদগুলোর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা একটি উল্লেখযোগ্য বাধা ছিল। অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা স্নাতকদের তাদের দক্ষতা প্রসারিত করতে এবং ঐতিহ্যবাহী একাডেমিয়ার বাইরের বিকল্প কর্মজীবনের পথ বিবেচনা করতে উৎসাহিত করেছে। একইভাবে, জার্মানিতে গবেষণার জন্য তহবিল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গবেষণার সুযোগের উপর অতিমারীর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি অনন্য চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে, যেখানে স্নাতকেরা অতিমারী-সম্পর্কিত ব্যাঘাতের পাশাপাশি কিছু গবেষণা ক্ষেত্রে সীমিত তহবিল এবং অবকাঠামোর মতো পদ্ধতিগত সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। এর জন্য তরুণ গবেষকদের মধ্যে উদ্ভাবন এবং সম্পদ ব্যবহারের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন।
উদ্বেগ সত্ত্বেও, অনেক পিএইচডি স্নাতক আশাবাদী। অতিমারী স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজন ক্ষমতাকেও উৎসাহিত করেছে, শিক্ষার্থীরা ডেটা বিশ্লেষণ, দূরবর্তী সহযোগিতা এবং বিজ্ঞান যোগাযোগের মতো নতুন দক্ষতা অর্জন করেছে। এই প্রজন্মের গবেষকেরা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা এবং তাদের দক্ষতা ব্যবহার করে সেগুলো মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। वैज्ञानिक परिदृश्य-এর উপর অতিমারীর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়, তবে এই "অতিমারী পিএইচডি"-দের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎকে রূপ দেবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment