কেইর স্টারমার ব্রেক্সিটের পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে লেবার পার্টির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের চেয়ে তিনি একক বাজারের সঙ্গে "আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক"-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে প্রকাশিত এই পরিবর্তনের লক্ষ্য ব্রেক্সিটের রাজনৈতিক জটিলতাগুলোর মধ্যে দিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
কিছু লেবার ব্যাকবেঞ্চার, ইউনিয়ন নেতা এবং এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছ থেকেও যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের আরও উচ্চাভিলাষী পুনর্গঠনের আহ্বানের মধ্যে লেবার নেতার এই অবস্থানটি উঠে এসেছে, যেখানে কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। গত বছর সংসদে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে এই আহ্বান আরও গতি পায়, যার ফলস্বরূপ একটি অ-বাধ্যতামূলক ভোট হয়।
তবে স্টারমার প্রকাশ্যে বলেছেন যে কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগদান করা বর্তমানে অগ্রাধিকার নয়। তিনি বিবিসির লরা কুয়েন্সবার্গকে বলেন যে একক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেওয়াটা গত বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এই অর্জনের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সুরক্ষিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরও চুক্তির প্রত্যাশা করা।
এই পরিবর্তনকে ব্রেক্সিটের রাজনৈতিক বাস্তবতার বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে উন্নত অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। নতুন বাণিজ্য চুক্তির উপর মনোযোগ বজায় রাখা লেবার পার্টিকে ব্রেক্সিটের পরবর্তী ব্রিটেনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার প্রদর্শনের পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকের সরকারও নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিটের পরবর্তীকালে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বিবেচনা করছে। ডাউনিং স্ট্রিট ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই সম্পর্কগুলো যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার পরিবর্তে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এই পদ্ধতিটিকে আরও ব্যাপক ব্রেক্সিট কৌশলের জন্য রাজনৈতিক চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস ইউনিয়নের সদস্যপদের বিপরীতে একক বাজারের সঙ্গে "আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক"-এর উপর জোর দেওয়া থেকে বোঝা যায় যে লেবার পার্টি এমন বিকল্পগুলো বিবেচনা করছে যা সম্পূর্ণরূপে ব্রেক্সিটকে বাতিল না করেও বাণিজ্য বাধা এবং নিয়ন্ত্রক ভিন্নতা হ্রাস করবে। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে এটি স্ট্যান্ডার্ডের সামঞ্জস্য এবং যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলোর উপর আলোচনার সাথে জড়িত থাকবে।
লেবার এবং কনজারভেটিভ সরকার উভয়ের পরিবর্তিত অবস্থানগুলো ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক পরিণতি মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি নির্দেশ করে। ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের সঠিক প্রকৃতি এখনও অনিশ্চিত থাকলেও, বাগ্মিতার পরিবর্তন বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অন্বেষণের ইচ্ছার ইঙ্গিত দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment