দিল্লির দাঙ্গার মামলা: কেন খালিদ ও ইমাম এখনও জামিন পাননি?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার পাঁচজন মুসলিম ছাত্র ও অধিকারকর্মীকে জামিন দিয়েছেন, যারা ২০২০ সালের নতুন দিল্লির ধর্মীয় দাঙ্গার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী ছিলেন। তবে উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন নাকচ করে দিয়েছেন, ফলে তারা বিচারের অপেক্ষায় কারাগারে থাকবেন। খালিদ ও ইমামের জামিন নাকচ হওয়ায় বিচারের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের দীর্ঘকাল ধরে আটকে রাখা এবং রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে ভারতের আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শামশাদ আহমেদের ছেলে শাদাব আহমেদ জামিন পাওয়াদের মধ্যে একজন, যা ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া অপেক্ষার অবসান ঘটায়। এই ব্যক্তিদের মুক্তি ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরে, যেখানে কোনো বিচার ছাড়াই ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হতে পারে।
উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম, উভয়েই পণ্ডিত ও অধিকারকর্মী, তাদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের দাঙ্গার আগে তাদের বক্তৃতার মাধ্যমে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ক্রমাগত আটকের কারণে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি সমালোচনা করেছে, যারা মনে করে যে অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাদের আটক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান লঙ্ঘন করে।
তাদের ক্রমাগত আটকের আইনি ভিত্তি হলো ভারতের রাষ্ট্রদ্রোহ আইন, একটি ঔপনিবেশিক যুগের বিধান যা সরকারের প্রতি অসন্তোষ সৃষ্টি করে এমন বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। সমালোচকরা বলছেন যে এই আইন প্রায়শই ভিন্নমত দমন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ব্যবহৃত হয়। সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন পর্যালোচনা করছে, যার বৈধতা ও পরিধি নির্ধারণের জন্য শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
প্রসিকিউশন যুক্তি দেখাচ্ছে যে খালিদ ও ইমামের বক্তৃতা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে যা দাঙ্গার দিকে পরিচালিত করেছে, অন্যদিকে তাদের আইনজীবীরা বলছেন যে তাদের কথাগুলো প্রসঙ্গ থেকে তুলে ধরা হয়েছে এবং তারা সহিংসতার পক্ষে কথা বলেননি। কোভিড-১৯ মহামারী এবং পদ্ধতিগত সমস্যা সহ বিভিন্ন কারণে বিচার বিলম্বিত হয়েছে।
খালিদ ও ইমামের ক্রমাগত আটক বিচার ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এআই-চালিত সরঞ্জামগুলি সম্ভাব্যভাবে প্রচুর পরিমাণে প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে, নিদর্শন সনাক্ত করতে এবং জামিনে মুক্তি দেওয়া ব্যক্তিদের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, এআই অ্যালগরিদমের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ফলাফলের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি এই মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খালিদ ও ইমামকে জামিন দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করবে। এই মামলার ফলাফল ভারতের বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমতের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment