মার্সিডিজ-বেঞ্জ তাদের ড্রাইভার-সহায়তা প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করছে, যার সর্বশেষ সংস্করণ ড্রাইভ অ্যাসিস্ট প্রো সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় প্রদর্শিত হয়েছে। এই সিস্টেমটির লক্ষ্য চালকের কাজের চাপ কমানো, শুধুমাত্র হাইওয়েতেই নয়, বরং কম গতিতে এবং শহরের রাস্তায়ও।
এই ধরনের সিস্টেমের উন্নয়ন গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর ড্রাইভিংয়ের কাজ স্বয়ংক্রিয় করার বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার প্রতিফলন। অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোলের ধারণা, যা মার্সিডিজ-বেঞ্জ ১৯৯৯ সালের এস-ক্লাস মডেলে প্রথম নিয়ে আসে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে। প্রথম দিকের অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল একটি নির্দিষ্ট গতি বজায় রাখতে এবং সামনের গাড়ির গতি কমে গেলে প্রতিক্রিয়া জানাতে রাডার ব্যবহার করত। এরপর গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো লেন-কিপিং ফাংশন যুক্ত করে, যার ফলস্বরূপ বর্তমানে জিপিএস-জিওফেন্সড গাড়িগুলো হাইওয়েতে আংশিকভাবে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং করতে সক্ষম, তবে চালককে অবশ্যই মনোযোগী থাকতে হবে।
ডেভেলপারদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল এই সিস্টেমগুলোর সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করা, যাতে তারা আরও জটিল ড্রাইভিং পরিস্থিতি সামলাতে পারে। ড্রাইভ অ্যাসিস্ট প্রো সিস্টেমটি শহুরে পরিবেশে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত পথচারী এবং যানবাহনের আচরণের কারণে একটি কঠিন স্থান। সিএলএ মডেলটিতে প্রথম এই নতুন প্রযুক্তিটি দেখা যাবে।
ড্রাইভার-সহায়তা সিস্টেমের বিবর্তন স্বয়ংক্রিয়তার উপযুক্ত মাত্রা এবং মানুষের চালকের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রবিধানগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন, যা এই প্রযুক্তিগুলোর প্রয়োগ এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। জার্মানির মতো কিছু দেশ স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে, অন্যরা এখনও আইনি কাঠামো তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ড্রাইভ অ্যাসিস্ট প্রো-এর প্রবর্তন এমন সময়ে এসেছে যখন অন্যান্য গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাও অনুরূপ প্রযুক্তিতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। উন্নত ড্রাইভার-সহায়তা সিস্টেম তৈরির বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা নিরাপত্তা উন্নত করার, যানজট কমানোর এবং সামগ্রিক ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সম্ভাবনা দ্বারা চালিত। মার্সিডিজ-বেঞ্জের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সিস্টেমটির আরও পরীক্ষা এবং পরিমার্জন করা, এবং ভবিষ্যতে আরও মডেলগুলোতে এটি ব্যাপকভাবে স্থাপনের পরিকল্পনা করা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment