প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের ব্যাপারে তার আগ্রহের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার ফলস্বরূপ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ডেনমার্কের প্রায়-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে অধিগ্রহণ করার হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, "জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রীনল্যান্ড প্রয়োজন," এবং তিনি ভেনেজুয়েলার উপর সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের সাথে এর একটি যোগসূত্র স্থাপন করেন।
গ্রীনল্যান্ডকে পাওয়ার জন্য ট্রাম্পের ক্রমাগত চেষ্টার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। ডিসেম্বরে, তিনি দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশেষ দূত নিয়োগ করেন, যা ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ড উভয়ের সাথেই সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তোলে।
ট্রাম্পের নতুন আগ্রহের প্রতিক্রিয়ায় ফ্রেডেরিকসেন বলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি বন্ধ করার জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করবেন। গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সাথে গ্রীনল্যান্ডকে যুক্ত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন।
গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের ধারণাটি নতুন নয়। ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রীনল্যান্ডকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। শীতল যুদ্ধের সময়, যুক্তরাষ্ট্র গ্রীনল্যান্ডে থুল এয়ার বেস স্থাপন করেছিল, যা তাদের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সম্পর্কিত জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে। দ্বীপটি খনিজ এবং বিরল মৃত্তিকা উপাদানসহ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, যা কৌশলগতভাবে মূল্যবান হতে পারে।
ডেনমার্ক সরকার মনে করে গ্রীনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। গ্রীনল্যান্ড, ডেনমার্ক রাজ্যের অংশ হলেও, এর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনার জন্য উচ্চ স্তরের স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ছাড়া অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ডের মধ্যে আরও কূটনৈতিক আলোচনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment