জাতিসংঘ – ভেনেজুয়েলায় "আগ্রাসনের অপরাধ"-এর অভিযোগে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়েছে। অনেক দেশ এই ঘটনাকে "আগ্রাসনের অপরাধ" হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলা এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের পর এই বৈঠক আহ্বান করা হয়।
ব্রাজিল, চীন, কলম্বিয়া, কিউবা, ইরিত্রিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং স্পেন সহ অন্যান্য দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূত সের্গিও ফ্রাঙ্কা ডানেস বলেছেন, "ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে বোমা হামলা এবং এর রাষ্ট্রপতিকে বন্দী করা একটি অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে।"
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এটি কোনো যুদ্ধ নয়, বরং একজন অবৈধ নেতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান ছিল। রাষ্ট্রদূত যুক্তি দেখিয়েছেন যে মাদুরোর সরকার ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী। তিনি ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য এই হস্তক্ষেপকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ন্যায্যতা দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাদুরোর সরকার লাতিন আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একজন সোচ্চার সমালোচক, যা ওয়াশিংটনকে হস্তক্ষেপ ও সাম্রাজ্যবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এই হস্তক্ষেপ জাতীয় সার্বভৌমত্বের সীমা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের যুক্তি হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তবে, সমর্থকদের দাবি, মানবাধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্রের প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে, এমনকি এর জন্য যদি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপও করতে হয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে, প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কারণ নিরাপত্তা পরিষদে যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে বিভক্ত, এবং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কিছু পর্যবেক্ষক এই ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির "পুতিনাইজেশন" এর প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে বিশ্ব মঞ্চে আরও দৃঢ় এবং একতরফা পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার ধারণা দেওয়া হয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment