সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শিশুদের জন্য সুপারিশকৃত রুটিন টিকাদানের সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে নামিয়ে এনেছে। আজ ঘোষিত এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন রোটাভাইরাস, হেপাটাইটিস এ এবং বি, মেনিনজাইটিস এবং মৌসুমী ফ্লু সহ বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিনের প্রস্তাবিত সময়সূচি পরিবর্তন করে।
নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, এই ভ্যাকসিনগুলি এখন শুধুমাত্র উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য অথবা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শের পরে সুপারিশ করা হচ্ছে, যেটিকে সিডিসি "যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ" হিসাবে অভিহিত করছে। এই পরিবর্তন পূর্ববর্তী সুপারিশ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি, যেখানে এই রোগগুলির বিরুদ্ধে সার্বজনীন টিকাদানের পক্ষে কথা বলা হয়েছিল।
সিডিসি-র একজন মুখপাত্র এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "এই সংশোধিত সময়সূচি টিকাদানের ক্ষেত্রে আরও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটায়, যা পৃথক ঝুঁকির কারণ এবং পিতামাতা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।" মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে এই পরিবর্তনটি বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের একটি ব্যাপক পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর লক্ষ্য হল সর্বাধিক সুবিধা এবং সর্বনিম্ন ঝুঁকির জন্য ভ্যাকসিনের সময়সূচিকে অপ্টিমাইজ করা।
স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র, যিনি পূর্বে অসংখ্য শৈশবের ভ্যাকসিনের সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে টিকাদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতামূলক পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন। এই পরিবর্তন শিশুদের দেওয়া ভ্যাকসিনের সংখ্যা কমাতে প্রশাসনের একটি নাটকীয় পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই চিকিৎসা মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে নিয়মিত সুপারিশকৃত ভ্যাকসিনের সংখ্যা হ্রাস করলে টিকাদানের হার কমে যেতে পারে এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হাসপাতালের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এমিলি কার্টার বলেছেন, "যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে সমস্ত শিশু গুরুতর অসুস্থতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনগুলি পায়। প্রস্তাবিত ভ্যাকসিনের সংখ্যা হ্রাস করলে দুর্বল শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।"
অন্যরা নতুন নির্দেশিকা সমর্থন করে যুক্তি দিয়েছেন যে এটি টিকাদানের ক্ষেত্রে আরও ব্যক্তিগতকৃত পদ্ধতির সুযোগ দেয়, যা পৃথক ঝুঁকির কারণ এবং পিতামাতার পছন্দকে বিবেচনা করে। ডেনভারের একজন ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডাঃ মাইকেল ডেভিস বলেছেন, "এই পরিবর্তনটি স্বীকার করে যে সমস্ত শিশু এক নয় এবং টিকাদানের সিদ্ধান্তগুলি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত যিনি শিশুর ব্যক্তিগত চাহিদা বোঝেন।"
সিডিসি নতুন ভ্যাকসিন সময়সূচি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে পিতামাতা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের শিক্ষিত করার জন্য একটি জনসচেতনতা অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটি পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করার জন্য টিকাদানের হার এবং রোগের প্রকোপ নিরীক্ষণ করারও इराদা রাখে। সংশোধিত নির্দেশিকাগুলির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সময় দেওয়ার জন্য নতুন সুপারিশগুলি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment