অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) কর্তৃক চূড়ান্ত করা একটি সংশোধিত বৈশ্বিক কর চুক্তি মার্কিন বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোকে তাদের বিদেশী লাভের উপর ১৫% বৈশ্বিক ন্যূনতম কর থেকে অব্যাহতি দেবে। মূলত ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে বৃহৎ বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোকে কম করের jurisdiction-এ মুনাফা স্থানান্তর করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি তৈরি করা হয়েছিল, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নেতৃত্বে আলোচনার পর এটি সংশোধন করা হয়।
প্রায় ১৫০টি দেশ জড়িত এই চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো যেখানেই কাজ করুক না কেন তাদের জন্য ন্যূনতম ১৫% করের হার প্রতিষ্ঠা করা। এর উদ্দেশ্য ছিল কর ফাঁকি কৌশলগুলো হ্রাস করা যা প্রতি বছর সরকারগুলোর বিলিয়ন বিলিয়ন রাজস্ব ক্ষতি করে। তবে, হালনাগাদ সংস্করণে মার্কিন-ভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মূল কাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
ওইসিডি-র সেক্রেটারি-জেনারেল ম্যাথিয়াস করমান চুক্তিটিকে "ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত" হিসাবে অভিহিত করেছেন যা করের নিশ্চয়তা বাড়ায়, জটিলতা হ্রাস করে এবং কর ভিত্তি রক্ষা করে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এটিকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য "ঐতিহাসিক বিজয়" হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যা আমেরিকান শ্রমিক এবং ব্যবসাকে আঞ্চলিকতার বাইরের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
প্রাথমিক ২০২১ সালের চুক্তিটি কর্পোরেট কর ফাঁকি নিয়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া ছিল। বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো, বিশেষত প্রযুক্তি এবং ওষুধ খাতে, প্রায়শই ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এবং আয়ারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডের মতো কম করের দেশে মুনাফা স্থানান্তর করে তাদের সামগ্রিক করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। প্রস্তাবিত ১৫% ন্যূনতম কর খেলার ক্ষেত্রকে সমান করতে এবং এই সংস্থাগুলো যাতে ন্যায্য হারে কর প্রদান করে তা নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।
মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলোর জন্য এই অব্যাহতি বৈশ্বিক কর প্রতিযোগিতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও মার্কিন সরকার যুক্তি দেখাচ্ছে যে এটি আমেরিকান ব্যবসাকে রক্ষা করে, তবে অন্যান্য দেশ এটিকে একটি অন্যায্য সুবিধা হিসাবে দেখতে পারে। এই সংশোধিত চুক্তিটি বৈশ্বিক কর সংস্কার প্রচেষ্টার সামগ্রিক কার্যকারিতাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে এবং অন্যান্য দেশগুলো অনুরূপ ছাড় চাইবে কিনা তা দেখার বিষয়, যা সম্ভাব্যভাবে উদ্যোগের মূল লক্ষ্যগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক কর সহযোগিতার ভবিষ্যৎ আগামী বছরগুলোতে এই পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলো কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে তার উপর নির্ভর করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment