যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ফলে নিকোলাস মাদুরোর মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রদ্রিগেজকে একই সাথে ভেনেজুয়েলার সরকারের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো সামলাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানটি মাদুরোকে বন্দী করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, যিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির স্বৈরাচারী নেতা ছিলেন। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে এবং ঘটনার অভিঘাতে ভেনেজুয়েলার প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাট রবিবার প্রায় শান্ত ছিল। কিছু ভেনেজুয়েলীয়কে আমেরিকান বিমান হামলার স্থানগুলোতে দেখা গেছে, আবার কেউ কেউ সামরিক অভিযানে নিহত আত্মীয়দের শনাক্ত করতে কারাকাসের বেলো মন্টে মর্গে ভিড় করে।
পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য রদ্রিগেজ সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সহযোগী এজেন্ডায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে, তিনি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং বাহ্যিক হুমকি থেকে মুক্তির অধিকারের উপর জোর দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ভেনেজুয়েলার আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে এবং আমরা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার পথ অনুসরণ করব।"
মার্কিন সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীকালে নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রদ্রিগেজের সহযোগিতার প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মাদুরোর মৃত্যুতে ভেনেজুয়েলার সরকারে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে গেছে। রদ্রিগেজ ক্ষমতা সুসংহত করার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার চেষ্টা করার সাথে সাথে দেশটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে এর সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment