ইউক্রেনে ড্রোন যুদ্ধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রবর্তনের সাথে বিকশিত হচ্ছে, যা ড্রোনগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করতে, অনুসরণ করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে। এই এআই-চালিত ড্রোনগুলো ঐতিহ্যবাহী দূরনিয়ন্ত্রিত সিস্টেম থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে, যা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিয়ে জটিল প্রশ্ন তৈরি করে।
এই প্রযুক্তির সাম্প্রতিক একটি উদাহরণে দেখা যায়, ইউক্রেনের একজন ড্রোন পাইলট, যিনি শুধুমাত্র লিপা নামে পরিচিত, এবং তার নেভিগেটর বোবারকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বোরিসোভকা গ্রামের কাছে সক্রিয় একটি রুশ ড্রোন দলকে নির্মূল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্ট্যান্ডার্ড কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে দলটিকে লক্ষ্যবস্তু করার আগের প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ রুশ জ্যামিং প্রযুক্তি পাইলট এবং ড্রোনের মধ্যে রেডিও যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করেছিল। লিপার দলকে এরিক শ্মিট, গুগলের প্রাক্তন সিইও-এর নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগ দ্বারা সরবরাহ করা একটি বিশেষায়িত সিস্টেম বাম্বলবি ড্রোন দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছিল।
বাম্বলবির মূল সুবিধা হলো এর এআই সক্ষমতা। ঐতিহ্যবাহী ড্রোনগুলো ক্রমাগত মানুষের নির্দেশনার উপর নির্ভর করে, তবে এই ড্রোনগুলো একটি লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করতে এবং ভারী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইন্টারফারেন্সের মধ্যেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা অনুসরণ ও আক্রমণ করতে পারে। এই স্বায়ত্তশাসন অত্যাধুনিক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা ড্রোনকে ভিজ্যুয়াল ডেটা বিশ্লেষণ করতে, পূর্বে প্রোগ্রাম করা লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে এবং একজন মানুষের অপারেটরের সাথে একটানা যোগাযোগ ছাড়াই সেগুলোর দিকে নেভিগেট করতে দেয়।
"ড্রোনগুলিতে এআই-এর ব্যবহার যুদ্ধক্ষেত্রের গতিশীলতা পরিবর্তন করে," নিউ আমেরিকার কৌশলবিদ পিটার সিঙ্গার বলেছেন। "এটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং এমন অঞ্চলে কাজ করার ক্ষমতা দেয় যেখানে যোগাযোগ দুর্বল বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"
ইউক্রেনে এআই-চালিত ড্রোনের বিকাশ এবং মোতায়েন সামরিক প্রযুক্তিতে একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে তুলে ধরে। যেখানে সমর্থকরা যুক্তি দেন যে এই সিস্টেমগুলো দক্ষতা বাড়াতে এবং মানব সৈন্যদের ঝুঁকি কমাতে পারে, সমালোচকরা অনিচ্ছাকৃত পরিণতি এবং প্রাণঘাতী সিদ্ধান্তগুলো মেশিনের হাতে দেওয়ার নৈতিক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একটি উদ্বেগ হলো অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা। যদি এআইকে পক্ষপাতদুষ্ট ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে এটি লক্ষ্যবস্তু ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারে বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উপর অসম ক্ষতি করতে পারে। আরেকটি উদ্বেগ হলো ত্রুটির ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাব। যখন একটি স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন ভুল করে, তখন সেই ভুলের জন্য দায় নির্ধারণ করা একটি জটিল আইনি এবং নৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ড্রোনগুলিতে এআই-এর ব্যবহার স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্র ব্যবস্থার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তোলে, যা প্রায়শই "কিলার রোবট" হিসাবে পরিচিত। এই সিস্টেমগুলো কোনও মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং আক্রমণ করতে সক্ষম হবে। অনেক বিশেষজ্ঞ এবং সংস্থা এই ধরনের অস্ত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা যুক্তি দিচ্ছেন যে এগুলো সহজাতভাবে বিপজ্জনক এবং এর ফলে একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আর্মস বিভাগের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর মেরি ওয়্যারহাম বলেছেন, "যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমাদের একটি গুরুতর আলোচনা করা দরকার। জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্তগুলো মেশিনের হাতে দেওয়ার ধারণাটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক।"
ইউক্রেনের পরিস্থিতি এআই-চালিত ড্রোনের বিকাশ এবং মোতায়েনকে ত্বরান্বিত করছে। যেহেতু উভয় পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে, তাই এই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বাড়তে পারে, যা যুদ্ধের ময়দানে মানুষ এবং মেশিনের মধ্যেকার নিয়ন্ত্রণকে আরও অস্পষ্ট করে তুলবে। এই প্রবণতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অনিশ্চিত, তবে এটা স্পষ্ট যে সংঘাতের ভবিষ্যৎ গঠনে এআই একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment