ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো সোমবার নিউ ইয়র্ক সিটির একটি আদালতে শুনানির সময় নিজেকে "যুদ্ধবন্দী" ঘোষণা করেন। ৪০ মিনিটের নাটকীয় শুনানিতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। আদালতে তিনি বলেন, তাকে "অপহরণ" করা হয়েছে।
আদালতে ঢোকার সময় মাদুরোর পায়ের শিকলের শব্দ শোনা যায়। বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনকে উদ্দেশ্য করে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, "আমি, স্যার, নিকোলাস মাদুরো। আমি ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রপতি এবং আমাকে ৩ জানুয়ারি থেকে অপহরণ করা হয়েছে।" এরপর একজন অনুবাদক তার কথা আদালতের জন্য অনুবাদ করেন। মাদুরো দাবি করেন, ভেনিজুয়েলার কারাকাসে তার বাড়ি থেকে তাকে বন্দী করা হয়েছে। বিচারক হেলারস্টেইন দ্রুত জবাব দেন যে এই দাবিগুলো জানানোর জন্য উপযুক্ত সময় আসবে।
মার্কিন আদালতে মাদুরোর উপস্থিতি তার রাষ্ট্রপতিত্বের বৈধতা নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বিরোধের ফল। মাদুরো ভেনিজুয়েলার ক্ষমতা ধরে রাখলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই স্বীকৃতি আসে, যা ব্যাপকভাবে অন্যায্য হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল। মাদুরোর পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মাদক পাচার ও দুর্নীতির সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এর আগে মাদুরো ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের indictment করেছে। মার্কিন সরকার তার গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য দিতে কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।
ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক জরুরি অবস্থা দ্বারা চিহ্নিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লক্ষ লক্ষ ভেনিজুয়েলার নাগরিক প্রতিবেশী দেশগুলোতে এবং তার বাইরেও আশ্রয় চেয়ে পালিয়ে গেছে। এই সংকট আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা একটি সমাধান মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।
মাদুরোর মামলার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এখনও অস্পষ্ট। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মার্কিন সরকার সম্ভবত তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ উপস্থাপন করবে। ভেনিজুয়েলার সরকার মাদুরোর আদালতের ঘোষণার বাইরে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment