২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মণ্যম জয়শঙ্কর ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারত ও বিএনপির মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা অবিশ্বাসের পর এই সাক্ষাৎ সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৩০শে ডিসেম্বর প্রয়াণের পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আঞ্চলিক নেতাদের এক সমাবেশে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
জয়শঙ্কর শোক প্রকাশ করেন এবং তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। জয়শঙ্করের এক্স (X)-এ করা একটি পোস্টে বৈঠকের ছবিসহ এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে বিএনপির প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। অতীতে এই দলটিকে নয়াদিল্লিতে সন্দেহের চোখে দেখা হতো।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন মতের কারণে ভারত ও বিএনপির মধ্যে সম্পর্ক বহু বছর ধরে tানাপূর্ণ। ভারত প্রায়শই বিএনপিকে ভারতবিরোধী উপাদানগুলিকে আশ্রয় দেওয়া এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে সমর্থন করার অভিযোগ করে থাকে, অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করে যে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে ভারত के সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। তবে, বিএনপি বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে এবং ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা থেকে তাদের বাদ দেওয়া আঞ্চলিক অস্থিরতার একটি উৎস, এমনটাই মনে করেন কিছু পর্যবেক্ষক।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডঃ স্মৃতি প্যাটেল বলেন, "এই বৈঠকটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি 'নতুন পর্যায়' এর সূচনা করতে পারে। বিএনপিকে একটি বৈধ রাজনৈতিক অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে যখন বাংলাদেশ তার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত মেরুকৃত। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়া ভারতকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আরও নিরপেক্ষ এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে দিতে পারে।
এই বৈঠক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অবিশ্বাস কাটিয়ে ওঠা এবং অন্তর্নিহিত উদ্বেগের মোকাবিলা করার জন্য উভয় পক্ষের কাছ থেকে ধারাবাহিক সংলাপ এবং ठोस পদক্ষেপ প্রয়োজন। ভারত-বিএনপি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভবত বিএনপির ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের সমাধানে আগ্রহ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবে, কারণ এর ওপর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব থাকতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment