বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি পার্সিয়ানের বিশ্লেষণ অনুসারে, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১৭টিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ২০২২ সালের পর থেকে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা ২৮শে ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হয়েছিল এবং তারপর থেকে দেশব্যাপী ৫০টির বেশি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১০ দিনের যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ এমনকি পূর্বে রাষ্ট্রের সমর্থনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ১০০টির বেশি ভিডিওর ভূ-অবস্থান এবং যাচাইকরণের উপর ভিত্তি করে বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিক্ষোভের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও বেশি, কারণ অতিরিক্ত ১১টি প্রদেশে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য প্রধান বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে ইরানি মুদ্রার মূল্যের উল্লেখযোগ্য পতনের পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এই অবমূল্যায়ন জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষ এখনও বিক্ষোভের ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি সম্পর্কে কোনও বিস্তৃত বিবৃতি দেয়নি, তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিছু জনসমাগমকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এর কারণ অর্থনৈতিক উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের বাইরের বিরোধী দলগুলো দাবি করেছে যে, এই বিক্ষোভ সরকারের নীতি এবং অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক অসন্তোষের প্রতিফলন।
বর্তমানের এই বিক্ষোভের ঢেউ ইরান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুরূপ অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে। এই বিক্ষোভের প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে এর সম্পর্ককে রূপ দেবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আরও উন্নয়নের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment