গ্রীনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে দেওয়া বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ছয়টি ইউরোপীয় মিত্র ডেনমার্কের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং ডেনমার্কের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, "গ্রীনল্যান্ড তার জনগণের, এবং শুধুমাত্র ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ড তাদের সম্পর্ক সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।"
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রবিবারের মন্তব্যের পর এই কূটনৈতিক সমর্থন আসে। ট্রাম্প বলেছিলেন যে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের "প্রয়োজন"। ট্রাম্প অঞ্চলটি অধিগ্রহণের জন্য বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সোমবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো)-র সমাপ্তি ঘটাবে।
ন্যাটো একটি ট্রান্সআটলান্টিক সামরিক জোট, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো বহিরাগত আগ্রাসনের ঘটনায় একে অপরকে সহায়তা করতে বাধ্য। জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা, আর্টিকেল ৫, শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরে।
ভেনিজুয়েলায় একটি অনুমানমূলক মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পরে গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের উপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে অভিজাত সৈন্যদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে মাদক ও অস্ত্র সম্পর্কিত অভিযোগের মুখোমুখি করার জন্য নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসার কথা ভাবা হয়েছিল।
ভূগোলিকভাবে আর্কটিক এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত গ্রীনল্যান্ড তার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক মূল্য বহন করে। প্রধান শিপিং লেনগুলোর সান্নিধ্য এবং সম্পদ উত্তোলনের সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তির আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দ্বীপটিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। উত্তর গ্রীনল্যান্ডে অবস্থিত থুল এয়ার বেস মার্কিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ডেনমার্ক সরকার ধারাবাহিকভাবে বজায় রেখেছে যে গ্রীনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণরূপে গ্রীনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের দ্বারা নির্ধারিত হবে। গ্রীনল্যান্ড ২০০৯ সালে ডেনমার্ক থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন লাভ করে, প্রাকৃতিক সম্পদ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগসহ বেশ কয়েকটি মূল এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তবে, ডেনমার্ক এখনও পররাষ্ট্র নীতি এবং প্রতিরক্ষা পরিচালনা করে। গ্রীনল্যান্ডের জনসংখ্যা মূলত ইনুইট, যাদের একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি এবং ভাষা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, ইউরোপীয় মিত্ররা দৃঢ়ভাবে ডেনমার্কের অবস্থানকে সমর্থন করছে। মার্কিন সরকার এখনও পর্যন্ত যৌথ বিবৃতির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পরবর্তী ঘটনাগুলোতে সম্ভবত প্রাসঙ্গিক পক্ষগুলোর মধ্যে আরও কূটনৈতিক আলোচনা এবং বিবৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কারণ আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment