ভেনিজুয়েলার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর মেক্সিকো উদ্বিগ্ন, লাতিন আমেরিকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের পুনরুত্থানের আশঙ্কা করছে। শনিবারের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা ও কলম্বিয়ার সঙ্গে মেক্সিকোকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার পর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। ওই হামলায় বহু হতাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে এর ব্যাপক নিন্দা করা হয়।
ট্রাম্প মাদক পাচার মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই বক্তব্য মেক্সিকোতে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে, যেখানে কর্মকর্তারা এটিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম ৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ন্যাশনাল প্যালেসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, "এটা ঘটতে দেব না," মেক্সিকোতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তিনি একথা বলেন। শেইনবামের এই দৃঢ় অবস্থান মেক্সিকোর সীমান্তের মধ্যে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বৃহত্তর অনুভূতিকেই প্রতিফলিত করে।
ভেনিজুয়েলার উপর হামলা এবং ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্য লাতিন আমেরিকা জুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশ এই অঞ্চলের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা হস্তক্ষেপমূলক নীতির ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বৈধতা এবং ন্যায্যতা নিয়েও আন্তর্জাতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান, যাতে বোমা হামলা এবং মাদুরোকে বন্দী করা হয়, তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। মার্কিন-মেক্সিকো সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর এই ঘটনাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনিশ্চিত রয়ে গেছে, তবে এর তাৎক্ষণিক ফলস্বরূপ উত্তেজনা বেড়েছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অ-হস্তক্ষেপের নীতিগুলির উপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও চলছে, এবং সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় আরও অগ্রগতি প্রত্যাশিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment