গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ ও কানাডার ব্যাপক নিন্দা সত্ত্বেও মার্কিন সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে গ্রীনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেনমার্কের অংশ গ্রীনল্যান্ডকে আর্কটিকে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে একটি জাতীয় নিরাপত্তা অপরিহার্যতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
এই ঘোষণাটি ড্যানিশ বাহিনী এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য দেশ থেকে আসা কয়েকশ সৈন্যের অংশগ্রহণে গ্রীনল্যান্ডে একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ার পরে আসে, যা সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ তারিখে শেষ হয়েছে। গ্রীনল্যান্ডের ন্যুুকে অনুষ্ঠিত এই মহড়া অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দখলের ধারণাটি ইউরোপীয় নেতারা দ্রুত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা গ্রীনল্যান্ডের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকারের ওপর জোর দিয়েছেন এবং ওয়াশিংটন থেকে আসা হুমকি হিসেবে তারা যা মনে করছেন তার নিন্দা করেছেন। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ থেকে জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গ্রীনল্যান্ড গ্রীনল্যান্ডের জনগণের"। "এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত যেকোনো সিদ্ধান্ত তাদের দ্বারাই নিতে হবে।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন এবং আর্কটিকের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু বরফ গলতে থাকায় অঞ্চলটি আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে, যা সম্ভাব্য বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার উন্মোচন করছে এবং নতুন শিপিং রুট খুলছে। এই সহজলভ্যতা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছে, যারা সবাই প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অঞ্চল দখলের ধারণা আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকাংশে সেকেলে হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠিত নিয়মকে দুর্বল করতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে গ্রীনল্যান্ডকে সংযুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্ভবত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে উল্লেখযোগ্য আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
মার্কিন সরকার এখনো জানায়নি যে কী পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করা হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আর্কটিকে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা এই অঞ্চলে রাশিয়ান বা চীনা প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
এই পরিস্থিতি ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরে। এআই-চালিত সিস্টেমগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে বিশাল ডেটা সেট বিশ্লেষণ করতে, সম্ভাব্য সংঘাতের পূর্বাভাস দিতে এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত মূল্য মূল্যায়ন করতে, সম্ভাব্য হুমকি বিশ্লেষণ করতে এবং অঞ্চলটিকে ঘিরে বিভিন্ন পরিস্থিতি মডেলিং করতে এআই ব্যবহার করে।
এই প্রেক্ষাপটে এআই-এর ব্যবহার নৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতিত্ব ঝুঁকির ভুল মূল্যায়ন করতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাছাড়া, এআই সিস্টেমের অস্বচ্ছতা সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি বোঝা কঠিন করে তুলতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে আস্থা ও স্বচ্ছতা কমিয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো বিকল্প বাতিল করেনি। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘনিষ্ঠভাবে এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং ডেনিশ সরকারের পক্ষ থেকে আগামী দিনে আরও বিবৃতি আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment