ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের উপায়গুলো খতিয়ে দেখার ঘোষণা করেছে, একই সাথে ভেনেজুয়েলার লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল বিক্রির একটি চুক্তি নিশ্চিত করেছে, যা ৬ই জানুয়ারীর ক্যাপিটল হামলার পঞ্চম বার্ষিকী চিহ্নিত করে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট নিশ্চিত করেছেন যে গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের আলোচনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ঘোষণা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, যেখানে তিনি অন্যান্য দেশ থেকে তেল উত্তোলনের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে চান, এবং ভেনেজুয়েলার চুক্তিতে সম্ভবত ১.৮ থেকে ৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল জড়িত।
সামরিক উপায়ে গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা তাৎক্ষণিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনেটর রুবেন গালেগো এই ধারণাটিকে "পাগলামি" বলে অভিহিত করেছেন এবং কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করে সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গালেগোর বিবৃতি সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং অঞ্চল অধিগ্রহণে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সাথে এক বৈঠকে এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন, এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে গ্রীনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ডের জনগণের উপর নির্ভর করা উচিত। এই বিবৃতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনাকর সম্পর্কের পরে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির চুক্তিটি হলো। সূত্র অনুসারে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ এখন দৃশ্যত ট্রাম্পের ইচ্ছানুসারে কাজ করছে। এই চুক্তি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং এটি বিশ্ব তেল বাজারের জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে। তেল বিক্রির সঠিক প্রক্রিয়া এবং রাজস্বের বিতরণ এখনও অস্পষ্ট।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর সুরের সাথে এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি, তবে এটি তেল চুক্তি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।
গ্রীনল্যান্ডে নতুন করে আগ্রহ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের আগের একটি প্রচেষ্টাকেই প্রতিধ্বনিত করে। ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ড তার অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই থুল এয়ার বেসের মাধ্যমে গ্রীনল্যান্ডে একটি সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, যা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনার বর্তমান অবস্থা এখনও অস্পষ্ট। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য ব্যবহার উল্লেখযোগ্য আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে, এবং গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের যেকোনো প্রচেষ্টা ডেনমার্ক, গ্রীনল্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে। এই বিতর্কিত উদ্যোগগুলো অনুসরণ করার সাথে সাথে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বিতর্ক এবং কূটনৈতিক চাল দেখা যেতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment