বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনা প্রতিষ্ঠিত বৈদেশিক নীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে ন্যাটোর মধ্যে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অধিগ্রহণের প্রস্তাবনার পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা কৌশল সম্পর্কিত জটিল প্রশ্ন তৈরি করে।
গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব এর ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সোনা ও তেলসহ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে। এই সম্পদগুলো দ্বীপটিকে বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
আটলান্টিক কাউন্সিল ইউরেশিয়া সেন্টারের একজন সিনিয়র ফেলো মেলিন্ডা হ্যারিং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটোর জন্য গভীর প্রভাব ফেলবে, কারণ গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি অঞ্চল, যা ন্যাটোর সদস্য। ক্রয় বা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ মিত্র দেশগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণাটি নতুন নয়। এর আগে মার্কিন সরকার দ্বীপটি কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল, বিশেষ করে ১৯৪৬ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ঠান্ডা যুদ্ধের সময় গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই প্রচেষ্টাগুলো করা হয়েছিল।
ডেনমার্ক ধারাবাহিকভাবে গ্রীনল্যান্ডের উপর তার সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে, যেটির যথেষ্ট পরিমাণে স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। দ্বীপটির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ড সরকার উভয়ের কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। অধিগ্রহণের দিকে কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও, সম্ভাবনার বিষয়ে ক্রমাগত আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে একটি চলমান আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্র-গ্রীনল্যান্ড সম্পর্ক সম্ভবত কূটনৈতিক আলোচনা এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment