ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের দলের অংশগ্রহণ ঘিরে নিরাপত্তার উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশ ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে টুর্নামেন্ট আয়োজকদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। এর আগে তিন দিন আগে বিসিবি পুরুষ দল ভারতে যাবে না বলে জানিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছে।
বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। আইসিসি বাংলাদেশকে চিহ্নিত নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিবৃতিতে নিরাপত্তার উদ্বেগের প্রকৃতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জটিল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এসেছে, বিশেষ করে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে প্রাথমিকভাবে যে অনীহা দেখা গিয়েছিল, তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিশিষ্ট ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। রহমান তাঁর ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃক মুক্তি পান, যা কিছু বাংলাদেশী ভক্ত ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
আইপিএল, ভারতের একটি পেশাদার টুয়েন্টি২০ ক্রিকেট লিগ, ক্রিকেট বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ফেলে। এটি বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দল জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এর অংশগ্রহণ জাতীয় গর্বের উৎস। তাই কোনো প্রকার হুমকি বা নিরাপত্তার অভাবকে বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
আইসিসির এই সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির ভূমিকাকে তুলে ধরে। এটি ক্রিকেট খেলার বিশ্বায়নের যুগে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যকেও তুলে ধরে। বিসিবির বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইসিসির সঙ্গে আরও আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ভারতে টুর্নামেন্টের আয়োজকরা আইসিসির নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলির সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment