বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কিউবার অর্থনীতি একটি মারাত্মক মন্দার সম্মুখীন হচ্ছে, যা এর ৬৭ বছরের কমিউনিস্ট বিপ্লবের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হিসেবে বর্ণিত হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চাপটি মূলত ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন-নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের ফলস্বরূপ, যা কিউবার একটি প্রধান মিত্র এবং তেল সরবরাহকারী দেশ।
ভেনেজুয়েলার সরকারের পতন, যেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করা হয়েছে, কিউবার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, যারা ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার বলেছিলেন যে কিউবা "গণনার জন্য নিচে যাচ্ছে," যা ইঙ্গিত করে যে প্রত্যক্ষ সামরিক পদক্ষেপ ছাড়া দেশটির সরকারের পতন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হাভানা-ভিত্তিক অর্থনীতিবিদ ওমর এভারলেনি পেরেজ (৬৪) সংকটে অবদান রাখা একাধিক কারণের একত্র হওয়াকে উল্লেখ করেছেন। পেরেজ বলেন, "আমি, যিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছি, আমি, যিনি সেখানে বাস করি, এবং আমি আপনাকে বলব: এখনকার মতো খারাপ আর কখনো হয়নি, কারণ অনেকগুলো বিষয় একসাথে এসে মিলিত হয়েছে।"
এই অর্থনৈতিক মন্দা ব্যাপক অভাব এবং সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর পতনের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, যা একসময় কিউবার নেতাদের, যেমন ফিদেল কাস্ত্রোর গর্বের উৎস ছিল। অতীতে কিউবা গণ অভিবাসন এবং খাদ্য সংকটসহ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি নজিরবিহীন "পাইকারি পতন" হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রতি তাদের নীতিগুলোকে কিউবার অর্থনৈতিক দুর্দশার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভেনেজুয়েলার তেল রাজস্বের ক্ষতি কিউবার সরকারের উপর একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সামাজিক কর্মসূচি বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। কিউবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতের জন্য এই অর্থনৈতিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment