প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের লক্ষ্যে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত তেল "হস্তান্তর" করবে। এই ঘোষণা ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্তমান বাজার মূল্যের উপর ভিত্তি করে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার (£২.১ বিলিয়ন) মূল্যের এই তেল বিক্রি করা হবে এবং এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ মার্কিন সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি আরও বলেন যে এই তহবিল ভেনেজুয়েলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং কম বিনিয়োগের কারণে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বহু বছর ধরে হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা পূর্বে অনুমান করেছিলেন যে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বিলিয়ন ডলার এবং সম্ভবত এক দশকের কাজ প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি যে মার্কিন তেল শিল্প ১৮ মাসের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় "চালু" হবে, তা এই চ্যালেঞ্জগুলোর প্রেক্ষিতে বেশ আশাব্যঞ্জক মনে হয়।
ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প, যা একসময় দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল, মাদুরোর নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন কমে গেছে এবং দেশটি তার অবকাঠামো বজায় রাখতে সংগ্রাম করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা মাদুরো সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। এবিসি নিউজ, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে ট্রাম্প, রদ্রিগেজকে তেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বিশেষ অংশীদারিত্বে সম্মত হতে এবং চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। চীন ইতোমধ্যে ট্রাম্পের ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির নিন্দা করেছে। ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্য সম্পর্কের সম্ভাব্য পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment