মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড X-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে দুই সপ্তাহ ধরে ধাওয়া করার পর "মারিনেরা" নামের একটি রুশ-পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে। মার্কিন কোস্ট গার্ড কর্তৃক পরিচালিত এই জব্দ অভিযানটি একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত কর্তৃক জারি করা পরোয়ানার অধীনে করা হয়েছে।
"মারিনেরা", পূর্বে "বেলা ১" নামে পরিচিত ছিল, এটিকে জাহাজে আরোহণের আগে ইউএসসিজিসি মুনরো কর্তৃক ট্র্যাক করা হয়েছিল। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে যে অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি এর আগে ট্যাংকারের দিকে একটি হেলিকপ্টারকে এগিয়ে যেতে দেখিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিল, যা একটি চলমান অভিযানের ইঙ্গিত দেয়।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এই জব্দ অভিযানটি ঘটল। এই ঘটনা সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মস্কো ওই এলাকায় একটি সাবমেরিন পাঠিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যদিও এটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। জব্দ করার আইনি ভিত্তি এবং মারিনেরার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো এখনও অস্পষ্ট, তবে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রায়শই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন বা অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইউরোপীয় দেশগুলো, যারা সমুদ্র বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল, তারা বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের পথে সম্ভাব্য ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে যে সংস্থাটি সংযম এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।
মার্কিন সরকার এখনও মারিনেরার কার্গো বা আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ট্যাংকারটি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর ভাগ্য এবং এর মালিক ও পরিচালকদের জন্য সম্ভাব্য আইনি পরিণতি নির্ধারণের জন্য আরও তদন্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ করতে পারে এবং এর ফলে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment