জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যাতে অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের "নিয়মতান্ত্রিক বৈষম্য"-এর বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে পরিস্থিতির "মারাত্মক অবনতি" ঘটেছে। [যদি তারিখ থাকে তবে সন্নিবেশ করুন, অন্যথায় বাদ দিন]-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ইসরায়েলি আইন, নীতি ও রীতিনীতি পরীক্ষা করে দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এগুলো ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনে "শ্বাসরুদ্ধকর প্রভাব" ফেলেছে এবং জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জোর দিয়ে বলেছেন যে পরিস্থিতিটি "আমরা আগে যে বর্ণবৈষম্য ব্যবস্থা দেখেছি তার অনুরূপ", তিনি এটিকে "জাতিগত বৈষম্য এবং বিভাজনের একটি বিশেষভাবে গুরুতর রূপ" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রতিবেদনে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মুখোমুখি হওয়া নিয়মতান্ত্রিক বৈষম্যের নির্দিষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল জাতিসংঘের প্রতিবেদনের കണ്ടെത്തব্যগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে। জেনেভায় ইসরায়েলি মিশন এই অভিযোগগুলোকে "অযৌক্তিক এবং বিকৃত" বলে অভিহিত করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর "ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের মূলে থাকা মৌলিক বিষয়গুলোকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে"। মিশনটি তাদের কার্যক্রম ও নীতির ভিত্তি হিসেবে "ইসরায়েল যে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন" সেটির ওপর জোর দিয়েছে।
পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই প্রতিবেদনটি এসেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লিখিত জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন জাতি, বর্ণ, বংশ অথবা জাতীয় বা জাতিগত উৎসের ভিত্তিতে যে কোনো পার্থক্য, বর্জন, সীমাবদ্ধতা বা পছন্দকে নিষিদ্ধ করে, যার উদ্দেশ্য বা প্রভাব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে সমানভাবে স্বীকৃতি, উপভোগ বা চর্চা করাকে বাতিল বা ক্ষতিগ্রস্ত করা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমান প্রতিবেদনটি পূর্ববর্তী অনুসন্ধান এবং মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই অনুসন্ধানের ভিত্তি হলো বিদ্যমান আইন, নীতি ও রীতিনীতির পর্যালোচনা, সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অথবা পৃথক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা এখনো দেখার বিষয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল তার পরবর্তী অধিবেশনে প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment