পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে ভারী তুষারপাত ও বরফ জমে যাওয়ায় শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক ভ্রমণ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই বিপর্যয়ের কারণে বিমান পরিষেবা, ইউরোস্টার ট্রেন পরিষেবা এবং সড়ক পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে।
নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টারডামের সিপোল বিমানবন্দর, যা ইউরোপের অন্যতম প্রধান পরিবহন কেন্দ্র, বুধবার ৭০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্রান্সে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইন্সগুলোকে প্যারিসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ৪০% কমানোর অনুরোধ করেছে। এই মারাত্মক আবহাওয়ার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এই সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে আবহাওয়া-সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; ফ্রান্সে পাঁচজন এবং বসনিয়ায় একজন।
ডাচ জাতীয় বিমান সংস্থা কেএলএম সতর্ক করে জানিয়েছে যে, কয়েক দিন ধরে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকার কারণে সিপোল বিমানবন্দরের ডি-আইসিং ফ্লুইডের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র স্টিফান ডঙ্কার পরিস্থিতিকে "অস্বাভাবিক" বলে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ১,০০০ জনেরও বেশি যাত্রী বিমানবন্দরে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। ডঙ্কারের মতে, নিরাপত্তা চৌকির আগে এবং পরে উভয় স্থানে কয়েকশ' শয্যা স্থাপন করা হয়েছিল এবং আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সমস্যার কারণে আরও বিলম্ব এবং ফ্লাইট বাতিলের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
বর্তমান শৈত্যপ্রবাহ চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে ইউরোপের পরিবহন অবকাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরে। এই মহাদেশটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পরিচিত হলেও, এখানে বিরূপ আবহাওয়ার ধরণগুলির তীব্রতা এবং পুনরাবৃত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেকে বৃহত্তর জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে মনে করেন। ব্যবসা এবং পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই বিমান ভ্রমণের উপর নির্ভরতা ফ্লাইট বাতিলের ঘটনাকে বিশেষভাবে প্রভাবশালী করে তোলে, যা কেবল স্বতন্ত্র ভ্রমণকারীদের নয়, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করে।
সিপোলের পরিস্থিতি গুরুতর শীতকালীন আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে প্রধান বিমানবন্দরগুলোর সম্মুখীন হওয়া লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জগুলোকেও তুলে ধরে। ডি-আইসিং ফ্লুইড একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, এবং এর প্রাপ্যতা সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং শীতকালীন শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য আবাসন এবং সহায়তার ব্যবস্থা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্স এবং স্থানীয় জরুরি পরিষেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
বুধবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কর্তৃপক্ষ রানওয়ে পরিষ্কার এবং ডি-আইসিং ফ্লুইডের সরবরাহ পুনরায় পূরণ করার জন্য কাজ করছিল। এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাদের ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার এবং স্বল্প মেয়াদে সম্ভাব্য বিলম্ব ও বাতিলের জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দিচ্ছে। ভ্রমণসূচী এবং বৃহত্তর অর্থনীতির উপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়, তবে বর্তমান বিপর্যয়গুলো একটি আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে চরম আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment