মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে "সামরিক উপায়ে" গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিকল্প হিসেবে রয়ে গেছে, কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অঞ্চলটি অধিগ্রহণের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছেন। রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ডেনিশ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করবেন।
রুবিওকে যখন এই ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে ন্যাটো মিত্রদের কাছ থেকে সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব স্বীকার করেছেন, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে কূটনীতি হল পছন্দের পদ্ধতি। এই বিবৃতিগুলো ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি দেওয়া হয়েছিল এবং দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতি নতুন করে আগ্রহের কারণ হল এর কৌশলগত অবস্থান এবং প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ, যার মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিরল মৃত্তিকা খনিজও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, বিশেষ করে থুল এয়ার বেসের মাধ্যমে, যা এর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণাটি নতুন নয়। প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১৯৪৬ সালে ডেনমার্ককে ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করে দ্বীপটি কেনার কথা ভেবেছিলেন। তবে ডেনমার্ক প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের আগ্রহও ডেনিশ কর্মকর্তাদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল, যারা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা, এমনকি একটি অনুমানমূলক বিকল্প হিসাবেও, উল্লেখযোগ্য নৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগের জন্ম দেয়। আন্তর্জাতিক আইন দেশগুলোর মধ্যে শক্তি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তাছাড়া, এই ধরনের পদক্ষেপ ডেনমার্কের সাথে সম্পর্ককে আরও খারাপ করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ন্যাটো সদস্য, এবং সম্ভাব্যভাবে আর্কটিক অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলতে থাকায় আর্কটিকের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে, যা নতুন শিপিং রুট এবং পূর্বে দুর্গম সম্পদগুলোতে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। রাশিয়া ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ আর্কটিক অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা এবং সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়ছে।
রুবিওর আসন্ন ডেনিশ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে সম্ভবত গ্রিনল্যান্ডে সহযোগিতার উপায়গুলো অনুসন্ধানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে, যার মধ্যে অবকাঠামো এবং সম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মার্কিন সরকার বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উন্নয়নের দিকে closely নজর রাখবে, কারণ গ্রিনল্যান্ড এবং আর্কটিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ তীব্র ভূ-রাজনৈতিক আগ্রহের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment