পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নীতি ছিল এই শুল্ক, যা প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, উচ্চ বেতন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনার উপায় হিসাবে প্রচার করা হয়েছিল। তবে, এর ব্যাপক প্রভাব অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইএমএফ-এর প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি বলেছেন যে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি "আমরা যা আশঙ্কা করেছিলাম তার চেয়ে ভাল, তবে যতটা হওয়া উচিত ছিল তার চেয়ে খারাপ।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্রাক-কোভিড সময়ের ৩.৭% গড় থেকে প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। জর্জিয়েভা একটি পডকাস্টে বলেন, "এই প্রবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মানুষের উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য খুবই ধীর।"
শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্য সম্পর্ক এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। ব্যবসাগুলোকে বর্ধিত খরচ এবং অনিশ্চয়তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন দেশের উপর এর প্রভাব ভিন্নভাবে অনুভূত হচ্ছে, কিছু অর্থনীতি বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং বাণিজ্য বিরোধ সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) তার বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সামনের দিকে তাকালে, শুল্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর এর প্রভাব বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করবে, যার মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা, প্রধান অর্থনীতির নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাণিজ্য সমস্যাগুলোতে দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ ভিত্তি খুঁজে বের করার ক্ষমতা অন্যতম। এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের নেতাদের মধ্যে বৈঠকটি দেখার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে, কারণ বাণিজ্য এবং শুল্ক আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment