মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর প্রেক্ষিতে এ ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের অজুহাত দেখিয়ে দ্বীপটির কাছে চীনা ও রুশ জাহাজগুলোর কথিত কার্যকলাপের কথা উল্লেখ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট নাকি গ্রীনল্যান্ড কেনা থেকে শুরু করে আরও জোরালো অধিগ্রহণের মতো বিকল্পগুলোও খতিয়ে দেখেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেন, "জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রীনল্যান্ড দরকার।"
তবে, ১৯৫১ সালের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি গ্রীনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক সামরিক প্রবেশাধিকার দিয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রীনল্যান্ড জুড়ে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার অনুমতি দেয়। এটি গ্রীনল্যান্ডের ভূখণ্ডের মধ্যে জাহাজ ও বিমানের চলাচল নিয়ন্ত্রণেও যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমতা দেয়। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রীনল্যান্ডের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ঘাঁটি পরিচালনা করে।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ৩০০ বছরেরও বেশি আগে গ্রীনল্যান্ডকে উপনিবেশ করে এবং এর পররাষ্ট্র বিষয়ক, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক নীতি তত্ত্বাবধান করে আসছে। গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণাটি ডেনমার্কের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংশয় এবং সরাসরি প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়েছে।
গ্রীনল্যান্ড কেনার ধারণাটি নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৭ সালে এবং আবারও ১৯৪৬ সালে দ্বীপটি কেনার কথা বিবেচনা করেছিল, যা এর কৌশলগত গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে, বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়কালে। গ্রীনল্যান্ডের অবস্থান এটিকে আর্কটিক এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে। খনিজ এবং সম্ভাব্য তেল মজুদসহ এর প্রাকৃতিক সম্পদও এর কৌশলগত মূল্য বাড়িয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চল ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে, যার ফলে বরফ গলছে এবং নতুন জাহাজ চলাচলের পথ ও সম্পদের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত হচ্ছে। এর ফলে রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের আগ্রহ ও তৎপরতা বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ডেনমার্কসহ আর্কটিক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্বার্থের জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে।
ড্যানিশ সরকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গ্রীনল্যান্ডের সাথে তার সম্পর্ক এবং আর্কটিক অঞ্চলে তার ভূমিকার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-গ্রীনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এখনও অনিশ্চিত, তবে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তি অব্যাহত সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment