বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য ঘাটতি ২৯.৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা জুন ২০০৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন মাসিক সংখ্যা। আগের মাসের ৪৮.১ বিলিয়ন ডলার থেকে এই উল্লেখযোগ্য হ্রাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক দ্বারা চালিত হয়েছিল, যা বাণিজ্য প্রবাহের উপর নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত রেখেছে।
আমদানি ৩.২ শতাংশ কমে ৩৩১.৪ বিলিয়ন ডলারে স্থির হয়েছে, যেখানে রপ্তানি ২.৬ শতাংশ বেড়ে ৩০২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমদানির তুলনায় রপ্তানির দ্রুত বৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের প্রধান কারণ ছিল, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
তবে, অক্টোবরের চিত্তাকর্ষক কর্মক্ষমতা সত্ত্বেও, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৭ শতাংশ বেশি, যা বছরের শুরুতে আমদানি বৃদ্ধির ফল। এটি ২০১৯ সালে বাণিজ্য প্রবাহের অস্থির প্রকৃতিকে তুলে ধরে, যা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির কারণে হয়েছে।
বছরটিতে প্রেসিডেন্টের শুল্কের কারণে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে এপ্রিলে ঘোষিত এই শুল্কগুলি ৭ই আগস্ট পুনরায় বহাল করার আগে বাণিজ্য আলোচনার জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। বাণিজ্যকে আরও প্রভাবিত করে, ২৯শে আগস্ট প্রশাসন ডি minimis ছাড় বাতিল করে, যার ফলে ৮০০ ডলারের কম মূল্যের বিদেশী চালানের শুল্কমুক্ত প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
এই ওঠানামাপূর্ণ বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন শিল্পে প্রভাব পড়েছে। আমদানিকারকরা বর্ধিত খরচ এবং অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে রপ্তানিকারকরা অন্যান্য দেশ থেকে পাল্টা শুল্কের সঙ্গে লড়াই করছেন। কিছু আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ার কারণে ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অর্থনীতিবিদরা এই বাণিজ্য নীতিগুলির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিভক্ত। কেউ কেউ যুক্তি দেন যে আমেরিকান শিল্পকে রক্ষা করতে এবং খেলার ক্ষেত্রকে সমান করতে শুল্ক প্রয়োজনীয়, আবার কেউ কেউ বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ক্ষতি এবং বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এই নীতিগুলির স্থায়ী প্রভাব নির্ধারণে আগামী মাসগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment