মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির উপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিবৃতি অনুসারে, নিকোলাস মাদুরোর অপসারণের পরবর্তী ঘটনাবলীর উপর নির্ভর করে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির তত্ত্বাবধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কয়েক বছর ধরে চলতে পারে।
হোয়াইট হাউস সপ্তাহের শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র "অনির্দিষ্টকালের জন্য" ভেনেজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে। জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই নীতিকে সমর্থন করে বলেন, কারাকাসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে এবং এর উৎপাদন স্তর বিশ্বব্যাপী তেলের দামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। নিষেধাজ্ঞার আগে, ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৫,০০,০০০ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে। নিষেধাজ্ঞার আরোপের ফলে এই রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা মাদুরো সরকারের রাজস্ব প্রবাহকে প্রভাবিত করেছে।
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে একটি নতুন গতিশীলতা নিয়ে আসে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে একটি স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দাম স্থিতিশীল করতে পারে। তবে, এটি বাজার কারসাজি এবং চীনের মতো দেশগুলোর সাথে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, যারা পূর্বে ভেনেজুয়েলার তেলের উপর নির্ভরশীল ছিল। ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ইতিমধ্যেই তেলের ফিউচার মার্কেটে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি, পিডিভিএসএ (PDVSA), কয়েক দশক ধরে দেশটির অর্থনীতির ভিত্তি ছিল। তবে, বছরের পর বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং কম বিনিয়োগ এর উৎপাদন ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কোম্পানিটির মূলধন এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করে এটিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মার্কিন তত্ত্বাবধানে পিডিভিএসএ-র ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, যেখানে পুনর্গঠন ও বেসরকারিকরণ থেকে শুরু করে নতুন সরকারের অধীনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকার মতো বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনুমান করা কঠিন। মার্কিন নিয়ন্ত্রণের সময়কাল, তেল বিক্রয় সংক্রান্ত বাস্তবায়িত নীতি এবং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের সাথে এর সম্পর্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং জ্বালানি সচিব রাইট উভয়ের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তারা অদূর ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলায় একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রাখতে ইচ্ছুক, যা দেশটির ইতিহাসে একটি সম্ভাব্য দীর্ঘ এবং জটিল অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment