রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সুবিশাল অপরিশোধিত তেলের মজুদকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন তেলের দামকে ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারে নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই কৌশলটির লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র থেকে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ ভোক্তাদের জ্বালানি খরচ কমানো।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল মার্কিন তেলের দামকে ব্যারেল প্রতি ৫৬ ডলারের বেশি থেকে কমিয়ে আনা। ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেল বিক্রি করে পাওয়া সমস্ত লাভ শুধুমাত্র আমেরিকান পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করতে হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিশ্ব বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা ইতিমধ্যেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপরিশোধিত তেলের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর আগে দাম প্রায় ২০% কমে গিয়েছিল, যা বাজারের সরবরাহ ওঠানামার প্রতি সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরে।
ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অব্যবস্থাপনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে যথেষ্ট বিনিয়োগ এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনুপস্থিত।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার কার্যকারিতা এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদী বাজারে এর প্রভাব ভেনেজুয়েলার উৎপাদনের পরিমাণের ওপর এবং অন্যান্য ওপেকভুক্ত দেশগুলোর সেই অনুযায়ী তাদের উৎপাদন সমন্বয় করার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। এই পরিকল্পনার সাফল্য ভেনেজুয়েলার তেল থেকে আসা রাজস্ব শুধুমাত্র মার্কিন পণ্য কেনার জন্য ব্যবহারের শর্ত মেনে চলার ওপরও নির্ভরশীল, যা বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment