স্থানান্তর শিবিরগুলোর নীরবতায় আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয়, নৃশংসতার ফিসফাস যা সহ্য করা কঠিন। সুদানে, চলমান সংঘাত যৌন সহিংসতার একটি ঢেউ উন্মোচন করেছে, যেখানে বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা এখন নীরবতা ভাঙতে সাহস দেখাচ্ছে, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর হাতে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অপহরণ এবং যৌন দাসত্বের মর্মান্তিক সাক্ষ্য দিচ্ছে। আল জাজিরা কর্তৃক প্রকাশিত এই বিশেষ বিবরণগুলো পদ্ধতিগত নির্যাতনের একটি ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরে, এমনকি অকল্পনীয় ঘটনারও বিশদ বিবরণ দেয়: শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন।
সুদান ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে, যখন সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং একটি আধা সামরিক গোষ্ঠী আরএসএফ-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ক্ষমতার এই লড়াই একটি নৃশংস গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিশাল আকারের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে, আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে বারবার ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাও রয়েছে। আইনের শাসনের অভাব, আরএসএফ-এর অবাধ ক্ষমতার সাথে মিলিত হয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে এই ধরনের নৃশংসতা দায়মুক্তি সহকারে ঘটতে পারে।
আল জাজিরার হয়ে নাদা কাদ্দৌরাহ এই সাক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নথিভুক্ত করেছেন, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের তাদের গল্প বলার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছেন। একজন নারী, যিনি তার স্বামীর হত্যাকাণ্ড দেখার পর বাড়ি থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন, তিনি অপহরণ ও কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্দী থাকার কথা জানান, যেখানে তিনি বারবার গণধর্ষণের শিকার হন। অন্য একজন জীবিত, একজন যুবতী মা, আরএসএফ সৈন্যদের তার শিশু সন্তানের উপর যৌন নির্যাতন চালানোর ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো সন্ত্রাস ও সম্প্রদায়কে বশীভূত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত পদ্ধতিগত নির্যাতনের একটি অংশ।
"এই হামলার মাত্রা এবং নৃশংসতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক," বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের সাথে কর্মরত সুদানের মানবাধিকার কর্মী ডাঃ ফাতিমা হাসান বলেন। "যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য আমাদের সমাজের সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই অপরাধীদের জবাবদিহি করার জন্য निर्णायक পদক্ষেপ নিতে হবে।"
এই নৃশংসতার প্রভাব বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বাইরেও বিস্তৃত। পুরো সম্প্রদায় অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, নারী ও মেয়েরা ক্রমাগত আতঙ্কে জীবন যাপন করছে। সুদানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি বিধ্বংসী।
আল জাজিরা কর্তৃক সংগৃহীত সাক্ষ্যগুলো এই অপরাধগুলো নথিভুক্ত করার এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, আরও অনেক কিছু করার আছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সরকারগুলোকে অবশ্যই বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা সেবা, মনো-সামাজিক সহায়তা এবং আইনি সহায়তা সহ বর্ধিত সহায়তা প্রদান করতে হবে। এই অভিযোগগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে, সুদানে আরও নৃশংসতা প্রতিরোধ এবং একটি আরও ন্যায়সঙ্গত ও equitable সমাজ গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবেলা করা, আইনের শাসনকে শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো প্রয়োজন। বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত, এবং তাদের গল্পগুলো পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করা উচিত। তবেই সুদান এই নৃশংস সংঘাতের দ্বারা সৃষ্ট গভীর ক্ষত থেকে নিরাময় লাভ করতে এবং এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে শুরু করতে পারবে যেখানে এই ধরনের ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি আর কখনো হবে না।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment