মেটার সম্প্রতি ম্যানুস নামক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) স্টার্ট-আপ অধিগ্রহণ করার বিষয়টি চীন তদন্ত করছে, যা প্রযুক্তি রপ্তানি এবং বহির্মুখী বিনিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হি ইয়াদং বৃহস্পতিবার এই তদন্তের ঘোষণা দেন। তদন্তের মূল বিষয় হলো, এই অধিগ্রহণ চীনের সেই আইন লঙ্ঘন করেছে কিনা, যেখানে ইন্টারেক্টিভ এআই সিস্টেমসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তি রপ্তানির জন্য সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
মেটা কর্তৃক ম্যানুস অধিগ্রহণের আর্থিক বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই তদন্ত চুক্তিতে জটিলতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত হলেও ম্যানুস-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চীনা প্রকৌশলীরা এবং এর একটি চীনা মূল কোম্পানি ছিল, যা এটিকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে আসে। এই পরিস্থিতি টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের ওপর চলমান নজরদারির প্রতিধ্বনি তোলে, যেখানে বাইটড্যান্সের মালিকানার কারণে চীন যেকোনো বিক্রয় অনুমোদনের অধিকার দাবি করেছে।
এই তদন্তটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন এআই বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত পার করছে। ম্যানুস মার্চ মাসে তাদের এআই এজেন্টের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে, যা স্বাধীনভাবে ওয়েবসাইট তৈরি এবং মৌলিক কোডিংয়ের কাজ করতে সক্ষম। এই উন্নয়ন এমন সময়ে ঘটেছে যখন মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প ডিপসিক নামক একটি চীনা স্টার্ট-আপের উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর তুলনায় অনেক কম খরচে একটি উচ্চ-কার্যক্ষমতাসম্পন্ন এআই সিস্টেম তৈরি করেছে। এই প্রতিযোগিতামূলক চাপ এআই প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব এবং এই ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে তুলে ধরে।
ম্যানুসকে অধিগ্রহণ করার মাধ্যমে মেটা তাদের এআই সক্ষমতা জোরদার করার চলমান প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করছে। কোম্পানিটি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং পরিষেবাগুলোতে এই প্রযুক্তিকে সংহত করার লক্ষ্যে এআই গবেষণা ও উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। ম্যানুসের এআই এজেন্ট কোডিংয়ের কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করতে পারার সম্ভাবনা মেটার সফটওয়্যার উন্নয়নের দক্ষতা এবং উদ্ভাবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
চীনের এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে আন্তঃসীমান্ত এআই অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মেটার বিরুদ্ধে রায় গেলে অন্যান্য কোম্পানিগুলো চীনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এআই স্টার্ট-আপ অধিগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারে, যা সম্ভবত প্রতিভা এবং প্রযুক্তির আন্তঃসীমান্ত প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিপরীতভাবে, অনুকূল ফলাফল এলে চীনা সংস্থাগুলোর সাথে জড়িত এআই-সম্পর্কিত লেনদেনের জন্য একটি বৃহত্তর নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এই তদন্ত প্রযুক্তি, ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্রমবর্ধমান সংযোগের ওপর আলোকপাত করে, যার কারণে কোম্পানিগুলোকে আন্তঃসীমান্ত এআই চুক্তিতে জড়িত হওয়ার সময় জটিল নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ করতে হয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment