নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে এবং আগামী কয়েক বছর ধরে দেশটি ও এর তেল মজুদ নিয়ন্ত্রণ করবে। ট্রাম্প বলেন, কারাকাস ওয়াশিংটনকে "আমাদের যা কিছু প্রয়োজন মনে হয়, তার সবকিছুই" দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক অধিপতি হিসেবে থাকবে।
ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, "আমরা এটিকে খুব লাভজনক উপায়ে পুনর্গঠন করব", তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা তেল ব্যবহার করতে যাচ্ছি এবং আমরা তেল নিতে যাচ্ছি।" কতদিন ধরে হোয়াইট হাউস ভেনেজুয়েলার সরাসরি তত্ত্বাবধানের দাবি জানাবে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, "আমি বলব এক বছরের চেয়ে অনেক বেশি।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের দেশের তেল বাজার উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রক্ষার বিবৃতির পরেই এসেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বভৌম দেশগুলোতে বাহ্যিক প্রভাবের ভূমিকা নিয়ে জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছে। ট্রাম্প কর্তৃক বর্ণিত একটি দেশের সম্পদের উপর "নিয়ন্ত্রণ"-এর ধারণাটি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলোর উপর আলোকপাত করে।
ভেনেজুয়েলার বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর তেল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য দেশটির তেল শিল্পের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেল মজুদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাৎপর্য অনেক। এটি সম্ভাব্যভাবে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াতে পারে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের রূপ পরিবর্তন করতে পারে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আইনি চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক নিন্দার সম্মুখীন হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটিকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার বর্তমান সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করলেও মাদুরো এখনও ক্ষমতায় রয়েছেন। ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার মাত্রা সম্ভবত ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিবর্তনের উপর নির্ভর করবে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে আরও আলোচনা, ভেনেজুয়েলার তেলের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ এবং ভেনেজুয়েলার মানবিক সংকট মোকাবেলার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment