শ্রেণিকক্ষের বিক্ষেপ কমানোর লক্ষ্যে একটি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রবণতার সাথে যোগ দিয়ে, নিউ জার্সি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ রাজ্য হিসাবে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। গভর্নর ফিলিপ ডি. মারফি বৃহস্পতিবার র্যামসে হাই স্কুলে বিলে স্বাক্ষর করেন। এই বিলে স্থানীয় শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়া, বিদ্যালয়ের সময়সূচিতে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট-সক্ষম ডিভাইস নিষিদ্ধ করার নীতি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনটির লক্ষ্য হলো টেক্সট মেসেজিং, সোশ্যাল মিডিয়া এবং মোবাইল গেমসের মতো ডিজিটাল বিক্ষেপ দ্বারা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের সমাধান করা। প্রায় এক বছর আগে মারফি তাঁর দেওয়া ‘স্টেট অফ দ্য স্টেট’ ভাষণে ফোন-বিহীন বিদ্যালয়ের পক্ষে কথা বলার পর, নিউ জার্সি আইনসভায় এই পদক্ষেপটি দ্বিদলীয় সমর্থন পায়। বিলে স্বাক্ষর করার আগে মারফি বলেন, "আমি একজন গভর্নর হওয়ার চেয়েও চার সন্তানের বাবা হিসেবে বলছি, আমার মনে হয় এই নিষেধাজ্ঞা আরও আগে জারি হওয়া উচিত ছিল।"
বিশ্বব্যাপী, স্মার্টফোনের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং সুস্থতার উপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ২০১৮ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুক্তরাজ্যে, পৃথক বিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতা রয়েছে, যার মধ্যে অনেক বিদ্যালয় স্কুলের সময়সূচিতে ফোন ব্যবহার সীমিত করতে পছন্দ করে। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলোতেও অনুরূপ বিতর্ক এবং পাইলট প্রোগ্রাম চলছে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সংমিশ্রণ নিয়ে একটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।
নিউ জার্সির আইনে স্থানীয় স্কুল বোর্ডগুলোর উপর সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং প্রয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিটি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা কাঠামোর প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে রাজ্য এবং স্থানীয় জেলাগুলো শিক্ষা নীতির উপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এই নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের দ্বারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, কারণ তারা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা এবং একাডেমিক পারফরম্যান্সের উপর এর প্রভাব বুঝতে চান। সম্ভবত, শিক্ষার্থীদেও পরীক্ষার স্কোর, শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং বিক্ষেপের মাত্রা সম্পর্কিত রিপোর্টের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই আইনের কার্যকারিতা পরিমাপ করা হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment