বাদীগণ, যার মধ্যে সংসদ সদস্য আলমামেহ গিব্বা রয়েছেন, যুক্তি দেখান যে এই নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। গিব্বা এর আগে সংসদে FGM বৈধ করার জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন, কিন্তু সেটি পরাজিত হয়েছিল। বর্তমান আইনি চ্যালেঞ্জটিকে কর্মীরা নারী অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
গাম্বিয়া ২০১৫ সালে FGM নিষিদ্ধ করে, এর চর্চাকারীদের জন্য মোটা জরিমানা এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ডের বিধান রাখে। তবে, এই প্রথা এখনও অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত। ইউনিসেফের মতে, গাম্বিয়ার প্রায় ৭৫% নারী FGM-এর শিকার, যাদের মধ্যে অনেকেই শিশু। এই পদ্ধতিতে সাধারণতExternal female genitalia আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) FGM-কে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করে, এবং এর কারণে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক আঘাতসহ গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে। কিছু ক্ষেত্রে, FGM মারাত্মক হতে পারে। গত বছর, গাম্বিয়ায় দুটি শিশু এই প্রক্রিয়া করার পরে জটিলতায় মারা গেছে বলে জানা যায়, যা বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গাম্বিয়ার অধিকার সংস্থা উইমেন ইন লিবারেশন লিডারশিপের প্রতিষ্ঠাতা ফাতু বালদেহ এই আইনি চ্যালেঞ্জকে দেশের নারী অধিকারের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। বালদেহ বলেন, "এটি একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ যা মেয়েদের এবং নারীদের এই ক্ষতিকর প্রথা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি করেছি, তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।" "আমরা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে এবং FGM থেকে সমস্ত মেয়ে নিরাপদ থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।"
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ তারা আশঙ্কা করছে যে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হলে অন্যান্য দেশেও অনুরূপ সুরক্ষা প্রত্যাহারের প্রচেষ্টা উৎসাহিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন অংশে FGM প্রচলিত আছে। সুপ্রিম কোর্ট এই মাসে মামলার শুনানি পুনরায় শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ওপর গাম্বিয়া এবং সম্ভবত এর বাইরের নারী অধিকারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment