২৫শে ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার দুই সপ্তাহ পরেও, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং অভিযানের সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সোকোতো রাজ্যে চালানো এই হামলাগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
বিষয়টির সাথে পরিচিত সূত্র অনুসারে, নাইজেরিয়ার সরকারের সাথে সমন্বিত এই অভিযানটি লাকুরাওয়া নামে পরিচিত একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। এই গোষ্ঠীটি মূলত মুসলিম স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে চাঁদাবাজি এবং শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য পরিচিত, যার মধ্যে গান শোনার মতো কার্যকলাপের জন্য বেত্রাঘাতের মতো শাস্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে বলেছিলেন, "উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার আইএসআইএস সন্ত্রাসী, যারা মূলত নিরীহ খ্রিস্টানদের টার্গেট করে নৃশংসভাবে হত্যা করছে, তাদের উপর অসংখ্য নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে।"
তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নাইজেরিয়ার সরকার উভয়ই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং হামলার প্রভাব মূল্যায়ন সম্পর্কে সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এই স্বচ্ছতার অভাবে জল্পনা বেড়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সামরিক অভিযানে এআই-এর ব্যবহার, যার মধ্যে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ এবং হামলা সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত, ক্রমশ বাড়ছে। এআই অ্যালগরিদমগুলি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে এবং সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতিগুলির পূর্বাভাস দিতে স্যাটেলাইট চিত্র, সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং যোগাযোগ ইন্টারসেপ্ট সহ প্রচুর পরিমাণে ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে। তবে, এআই-এর উপর নির্ভরতা জবাবদিহিতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা সম্পর্কে নৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন করে।
সেন্টার ফর এআই অ্যান্ড গ্লোবাল সিকিউরিটি-র গবেষক ডঃ Anya Sharma বলেছেন, "সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার জবাবদিহিতার ঐতিহ্যগত ধারণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।" "অ্যালগরিদমগুলি অস্বচ্ছ হতে পারে এবং ত্রুটি ঘটলে বা অপ্রত্যাশিত পরিণতি দেখা দিলে কে দায়ী তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।"
এই পরিস্থিতি যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর ভূমিকা এবং বৃহত্তর স্বচ্ছতা ও তদারকির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চলমান বিতর্ককে তুলে ধরে। সরকারি সূত্র থেকে বিস্তারিত তথ্যের অভাব এ ধরনের অভিযানের সম্পূর্ণ প্রভাব বুঝতে স্বাধীন তদন্ত এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের গুরুত্বের উপর জোর দেয়।
আপাতত, নাইজেরিয়ার সরকার হামলার বিষয়ে কোনও বিস্তৃত বিবৃতি দেয়নি এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী অপারেশনাল সুরক্ষা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি বেসামরিক প্রভাব এবং বিমান হামলার দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি মূল্যায়ন করার জন্য আরও তদন্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি সক্রিয় বিদ্রোহ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জড়িত জটিল নৈতিক এবং কৌশলগত বিবেচনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment