প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনকে ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন, যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘের সাথে যুক্ত। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি সংকেত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপ বহুপাক্ষিকতাবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখাচ্ছে যে এই সংস্থাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ দেশটির স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংস্থাগুলোর কয়েকটিকে "অকেজো বা অপচয়মূলক" হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আরও বেশি সমর্থন যোগায়। যদিও লক্ষ্য করা সংস্থাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে নির্দেশের ব্যাপকতা আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার একটি বিস্তৃত পুনর্মূল্যায়নকেই ইঙ্গিত করে।
জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তার বৈশ্বিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার সত্ত্বেও তার ম্যান্ডেট পূরণে তাদের নিষ্ঠা অবিচল থাকবে।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ এবং মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইনের প্রাক্তন উপদেষ্টা অ্যাডলফো ফ্রাঙ্কো মনে করেন, এই পদক্ষেপটি আমেরিকান রাজনৈতিক চিন্তাধারার কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের সমালোচনার প্রতিফলন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায়শই এই সংস্থাগুলোকে অকার্যকর, আমলাতান্ত্রিক বা এমনকি মার্কিন সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দেওয়া সংস্থা হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে, মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের প্রাক্তন সহকারী সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যান্ড্রু গিলমোর বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিচ্যুতি জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা দুর্বল করতে পারে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নির্বাহী ভিপি এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাক্তন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ম্যাথু ডুস এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একতরফাবাদের দিকে একটি ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন যে এই পদ্ধতি মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে দুর্বল করতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা ও অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, কারণ তারা এগুলোকে শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য সরঞ্জাম হিসেবে মনে করত। নীতির এই পরিবর্তন বিশ্ব মঞ্চে মার্কিন নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এবং অন্যান্য দেশগুলোর শূন্যস্থান পূরণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই প্রত্যাহারের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও দেখার বাকি, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment