ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। গত শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক অভিযানে কারাকাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই বিষয়ে এক সপ্তাহ ধরে নীরব রয়েছেন, বিশ্লেষকরা এই নীরবতাকে মস্কোর পররাষ্ট্রনীতির একটি কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
রাশিয়ার নববর্ষের ছুটির কারণে এই নীরবতা কিছুটা প্রভাবিত হলেও, রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির সাথে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, এটি ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপগুলোকে কম গুরুত্ব দেওয়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে, যা আগে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করত। এই পরিবর্তনটি ওয়াশিংটনের সাথে উত্তেজনা এড়াতে পুতিনের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টাকে ইঙ্গিত করে, বিশেষ করে ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের একটি অনুকূল সমাধানের জন্য তিনি যখন চাইছেন।
পুতিনের এই দৃষ্টিভঙ্গি ইউক্রেনের কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছাকে নির্দেশ করে, যেখানে রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে তার প্রভাব বিস্তার করেছে, এমন অন্যান্য অঞ্চলে সংঘর্ষে জড়িত হওয়ার চেয়ে। অতীতে ক্রেমলিন ভেনিজুয়েলার মতো অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, তার বিপরীতে এটি দেখা যাচ্ছে। মে মাসে মাদুরো মস্কোতে পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তিনি রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ঘোষণা করেছিলেন।
মার্কিন সামরিক অভিযান, যার ফলস্বরূপ মাদুরোর গ্রেপ্তার, বুধবার সংঘটিত হয়েছিল। অভিযানের পেছনের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি ভেনিজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছে, তাকে স্বৈরাচারী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং পুতিনের নীরবতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বাকি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া, বা প্রতিক্রিয়াহীনতা, অন্যান্য দেশগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যা মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পরিবর্তিত গতিশীলতার একটি সূচক হিসেবে কাজ করবে। মার্কিন সরকার এখনও অভিযানের কারণ সম্পর্কে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment