সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু করা সামরিক হামলাগুলো শান্তিরক্ষী হিসাবে তার একটি ভাবমূর্তি তৈরির প্রচেষ্টার সাথে সাংঘর্ষিক, যা তার পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই বৈপরীত্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি জটিল এবং প্রায়শই পরস্পরবিরোধী সময়কে তুলে ধরে, বিশেষ করে সেই অঞ্চলগুলোতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সাথে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে।
বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে, ট্রাম্পের নিজেকে একজন আলোচক হিসাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা প্রায়শই অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। এই দ্বৈততা তার প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক অধ্যাপক ডঃ Anya Sharma বলেন, "ব্যয়বহুল চুক্তি থেকে সরে আসার আকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি স্পষ্ট উত্তেজনা ছিল।"
সোমালিয়ায় কথিত সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির এবং ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপরের হামলাগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং আরও আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিল। তবে সমালোচকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই পদক্ষেপগুলো উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। বৈরুত-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওমর হাসান বলেন, "এই হামলাগুলোর প্রায়শই অপ্রত্যাশিত পরিণতি হয়েছে, যা মার্কিন বিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিয়েছে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সুবিধা নেওয়ার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।"
এই ঘটনাগুলোর আশেপাশের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সাংস্কৃতিকভাবে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ধারণা বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ভিন্ন ছিল, কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তাকারী হিসাবে দেখত আবার কেউ কেউ এটিকে একটি হস্তক্ষেপকারী শক্তি হিসাবে দেখত।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপগুলোকে প্রায়শই মিত্ররা সন্দেহের চোখে দেখত, যারা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আরও বহুপাক্ষিক পদ্ধতির পক্ষে ছিল। বিশেষ করে ইউরোপীয় নেতারা, একতরফা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ভঙ্গুর অঞ্চলগুলোকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, এই বিপরীতধর্মী পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্পের পরবর্তী বাইডেন প্রশাসন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে পুনরায় যুক্ত হতে এবং কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছে, তবে ট্রাম্প যুগের উত্তরাধিকার এখনও বিশ্ব পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। ভবিষ্যতের ঘটনা সম্ভবত ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার বিবর্তন এবং জটিল সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সমস্ত পক্ষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment