ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত সামরিক পদক্ষেপগুলি ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্ব মঞ্চে একজন শান্তিস্থাপনকারী হিসাবে তার উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্যের সাথে বিপরীত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষণে ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর এবং তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সামরিক শক্তি প্রয়োগের মধ্যে আপাত বিরোধ পরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সামরিক হামলার অনুমোদন দেওয়ার উদাহরণগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে স্থান বা লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে ট্রাম্পের বৃহত্তর বৈদেশিক নীতি উদ্দেশ্যের প্রেক্ষাপটে তা আলোচনা করা হয়েছে। এতে বিদেশি সংঘাতগুলোতে আমেরিকান সম্পৃক্ততা কমানোর আকাঙ্ক্ষা এবং অনুভূত হুমকি মোকাবিলা বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি টানাপোড়েন দেখা যায়।
বিশ্লেষকরা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল প্রকৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে শান্তির অন্বেষণে কখনও কখনও বলপ্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ডঃ অনন্যা শর্মা বলেছেন, "আন্তর্জাতিক অঙ্গন যুদ্ধ এবং শান্তির একটি সরল দ্বৈততা নয়।" "মাঝে মাঝে, শক্তির প্রদর্শন একটি প্রতিরোধক হিসাবে দেখা হয়, যা বৃহত্তর সংঘাতকে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে পারে।"
প্রতিবেদনে সেই সাংস্কৃতিক পটভূমিও বিবেচনা করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল। বিশ্বের অনেক স্থানে, যুক্তরাষ্ট্রকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব সহ একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে দেখা হয়। তবে, এই ধারণাটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত নয়, এবং কিছু দেশ আমেরিকান সামরিক হস্তক্ষেপকে সন্দেহ বা সরাসরি শত্রুতা হিসাবে দেখে।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, "যুদ্ধ বন্ধ করা নাকি যুদ্ধ করা" এই প্রশ্নটি কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রেই অনন্য নয়। শান্তির অন্বেষণে কখন এবং কীভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে অনেক বিশ্বনেতাই সংগ্রাম করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল এর আপাত অসংগতির কারণে, যা মিত্র এবং প্রতিপক্ষ উভয়ের মধ্যেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনের তারিখ অনুযায়ী, এই পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষণটি আমেরিকান বৈদেশিক নীতি এবং বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার উপর এর প্রভাবের উপর ক্রমাগত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে শেষ হয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment