জেরুজালেমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযান: পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বাড়ছে অধিকার নিয়ে উদ্বেগ
সামাজিক মাধ্যমে আসা এবং পরবর্তীতে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রবেশ করার সময় সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযানের কারণ নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, कथित গোলযোগ এবং এলাকায় কর্মকর্তাদের দিকে পাথর ছোড়ার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তবে ফিলিস্তিনিদের দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং এটি ছিল অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন attendee বলেন, "তারা কোনো রকম সতর্ক না করে ভিড়ের মধ্যে স্টান গ্রেনেড ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঢুকেছিল। লোকজন নাচছিল এবং উদযাপন করছিল, আর তার পরেই হঠাৎ বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। তারা বর ও তার কয়েকজন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।"
এই ঘটনা পূর্ব জেরুজালেমের চলমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে, যা ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর ইসরায়েল অধিগ্রহণ করে নেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অধিগ্রহণকে স্বীকৃতি দেয় না। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। এই এলাকাটি ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের স্থান হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বলপ্রয়োগের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র বলেন, "একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সরাসরি গুলি ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে।"
ইসরায়েলি পুলিশ এখনও পর্যন্ত আটককৃতদের নাম প্রকাশ করেনি বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো জানায়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটককৃতরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনাটি সম্ভবত এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের চলমান প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আরও তথ্য জানানো হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment