যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে "একটা চুক্তি করার" জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল এবং অর্থ প্রবাহ দ্বীপটিতে বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রাম্পের এই বিবৃতি, যা রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, কিউবা দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার তেল এবং আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল ছিল, যার বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার নেতাদের নিরাপত্তা পরিষেবা প্রদান করত। তিনি লিখেছেন, "কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল এবং অর্থের উপর নির্ভর করে চলেছে। বিনিময়ে, কিউবা বিগত দুই ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসকের জন্য 'নিরাপত্তা পরিষেবা' সরবরাহ করেছে, কিন্তু আর নয়!" তিনি আরও যোগ করেছেন, "কিউবায় আর কোনও তেল বা অর্থ যাবে না - শূন্য! আমি দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, খুব দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন একটা চুক্তি করে নেয়।" ট্রাম্প চুক্তির শর্তাবলী বা কিউবা যদি রাজি না হয় তাহলে কী পরিণতি হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করেননি।
কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা, প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল দ্বীপটিতে পাঠায় বলে অনুমান করা হয়। এই ব্যবস্থা কিউবার অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা, বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে। কিউবা বছরের পর বছর ধরে মাদুরোর সরকারকে নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ করেছে। কিউবার সরকার জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মাদুরো ও ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানটি ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে ৩ জানুয়ারি সংঘটিত হয়। মাদুরো ও ফ্লোরেস মার্কিন আদালতে মাদক পাচার ও অন্যান্য অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মাদক পাচারের অভিযোগ করে আসছে।
ট্রাম্পের এই বিবৃতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্কের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাইডেন প্রশাসন কিউবার উপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাকর। ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলে কিউবার অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে, যা আরও অস্থিরতার দিকে পরিচালিত করতে পারে। কিউবার সরকার এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক এবং কোনও "চুক্তি"-র সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment