একজন সরকারি মন্ত্রীর বিবৃতি অনুসারে, ডিপফেক সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে যুক্তরাজ্যে X নামক একটি কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রী প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তারা এআই-উত্পাদিত কারসাজি করা বিষয়বস্তুর বিস্তার রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, এবং এটিকে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার সংসদীয় শুনানিতে মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্যেরIntegrity নিশ্চিত করতে সরকার নিষেধাজ্ঞা সহ সমস্ত উপলব্ধ বিকল্প সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। সুনির্দিষ্ট উদ্বেগের বিষয় হল ডিপফেকগুলি, যা সম্ভাব্যভাবে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারে, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বা সুনামহানি করতে পারে।
গত বছর পাস হওয়া অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং ক্ষতিকারক বিষয়বস্তুর জন্য তাদের জবাবদিহি করার ক্ষমতা সরকারকে দিয়েছে। এই আইন X-এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের কাঠামো প্রদান করে, যার মধ্যে জরিমানা এবং শেষ পর্যন্ত, প্ল্যাটফর্মটি আইনের বিধানগুলি মেনে চলতে ব্যর্থ হলে নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।
X-এর সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে প্ল্যাটফর্মটি ডিপফেক সহ ভুল তথ্য এবং ক্ষতিকারক বিষয়বস্তুর বিস্তার মোকাবেলায় যথেষ্ট কাজ করেনি। তারা এমন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেখানে কারসাজি করা ভিডিও এবং ছবি ভাইরাল হয়েছে, যার ফলে বাস্তব জগতে ক্ষতি হয়েছে।
মন্ত্রীর বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় X একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ডিপফেক এবং ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কোম্পানিটি কারসাজি করা বিষয়বস্তু সনাক্তকরণ এবং অপসারণের লক্ষ্যে তার বিদ্যমান নীতি এবং প্রযুক্তিগুলির রূপরেখা দিয়েছে, এবং যোগ করেছে যে তারা এই ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা উন্নত করার জন্য ক্রমাগত কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা ডিপফেক-এর বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখি এবং আমাদের ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু থেকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
তবে, কিছু বিশেষজ্ঞ X-এর প্রচেষ্টা সম্পর্কে সন্দিহান রয়েছেন, তারা যুক্তি দেখান যে প্ল্যাটফর্মের নীতিগুলি ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হয় না এবং ডিপফেক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশমান সক্ষমতার সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো উন্নত সনাক্তকরণ প্রযুক্তি তাদের নেই।
ডিপফেকগুলি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আস্থা নষ্ট করতে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করতে পারে, এই বিষয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশ ডিপফেকগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং যারা এগুলি তৈরি এবং প্রচার করে তাদের জবাবদিহি করার উপায় অনুসন্ধান করছে।
বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিভাগ বর্তমানে সরকারের উদ্বেগের বিষয়ে X-এর প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। আশা করা হচ্ছে বিভাগটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রীর কাছে একটি সুপারিশ পেশ করবে, যার পরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞ, অংশীজন এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথে পরামর্শ করা হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment