ন্যাটোর প্রাক্তন কমান্ডার রিচার্ড শিরেফ বলেছেন, রাশিয়া কর্তৃক ন্যাটোর দুর্বলতা কাজে লাগানোর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইউরোপকে অবশ্যই তার নিজের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। ২০১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শিরেফ এই মন্তব্য করেন। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এমন একটি উদাহরণ যা জোটকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
শিরেফ যুক্তি দেখান যে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি, জোটের সংহতির চেয়ে লেনদেন সংক্রান্ত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছাকে প্রকাশ করে। শিরেফ বলেন, "এই আগ্রাসী পদক্ষেপগুলো... রাশিয়াকে বিশৃঙ্খল ন্যাটোকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিতে পারে।" তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে এবং আরও ঐক্যবদ্ধ নিরাপত্তা কৌশল তৈরি করার উপর জোর দেন।
ন্যাটোর মধ্যে চলমান বিতর্ক এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের মধ্যে এই মন্তব্যগুলো এসেছে। বছরের পর বছর ধরে, যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের জিডিপির ২% এর সম্মত লক্ষ্য পূরণের জন্য তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে, কিছু ইউরোপীয় নেতা শুধুমাত্র সামরিক ব্যয়ের উপর নির্ভর করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, তারা কূটনীতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগসহ একটি বৃহত্তর পদ্ধতির পক্ষে কথা বলছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের আলোচনা আরও বেড়েছে, বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক সংকটগুলোর প্রতি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মতো ঘটনার পরে। বৃহত্তর ইউরোপীয় স্বাধীনতার সমর্থকরা যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন নির্বিশেষে, নিজের স্বার্থে সিদ্ধান্তমূলকভাবে কাজ করতে সক্ষম হওয়া মহাদেশটির প্রয়োজন।
ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বর্তমান অবস্থা মিশ্র। ফ্রান্স ও জার্মানির মতো কিছু দেশ তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করলেও, অন্যরা ন্যাটো ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে রয়েছে। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য স্থায়ী কাঠামোগত সহযোগিতা (PESCO) এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ চলছে, যার লক্ষ্য সামরিক সক্ষমতার যৌথ উন্নয়ন এবং operational readiness বৃদ্ধি করা।
ভবিষ্যতে, ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউক্রেনের চলমান সংঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ন্যাটো-র ভবিষ্যৎ এবং নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকে আরও বেগবান করবে। আগামী মাসগুলোতে আরও উন্নয়নের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, কারণ ইউরোপীয় নেতারা ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সঙ্গে বৃহত্তর কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment