প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস ঘোষণা করেছেন যে সুদানের সরকার প্রায় তিন বছর পোর্ট সুদান থেকে কার্যক্রম চালানোর পর খার্তুমে ফিরে এসেছে। পোর্ট সুদান যুদ্ধকালীন রাজধানী হিসেবে কাজ করেছে। সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) গত বছরের মার্চ মাসে খার্তুম পুনরুদ্ধার করার পরে সরকারের এই স্থানান্তর হয়েছে। এর আগে সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার এপ্রিল ২০২৩-এ শহরটি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরে পালিয়ে গিয়েছিল।
ইদ্রিস প্রত্যাবর্তিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আজ আমরা ফিরে এসেছি, এবং 'আশার সরকার' জাতীয় রাজধানীতে ফিরে এসেছে।" এই পদক্ষেপটি এসএএফ এবং আরএসএফ-এর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত দেয়।
এপ্রিল ২০২৩-এ শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ, খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফ-এর হাতে চলে যাওয়ায় সরকারকে পোর্ট সুদানে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করে। এই সংঘাতের ফলে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বারবার ত্রাণ বৃদ্ধি এবং শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারের প্রত্যাবর্তনকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। খার্তুমের কিছু অংশ এখনও সংঘাত থেকে পুনরুদ্ধার হচ্ছে, এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ভঙ্গুর। আরএসএফ দেশের অন্যান্য অংশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, এবং যুদ্ধরত দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এখনও পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সরকারের ঘোষিত নীতি হল খার্তুমে জরুরি পরিষেবা এবং অবকাঠামো পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে বৃহত্তর সংঘাত অব্যাহত থাকাকালীন তারা কতটা এটি অর্জন করতে পারবে তা অনিশ্চিত। সমালোচকরা আরও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তারা বলছেন যে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য সংঘাতের পেছনের কারণগুলির সমাধান করা প্রয়োজন।
খার্তুমে সরকারের প্রত্যাবর্তন চলমান সুদানের সংঘাতের একটি প্রতীকী মুহূর্ত। আগামী মাসগুলোতে এটি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে যে এই পদক্ষেপ সাধারণ সুদানি নাগরিকদের জীবনে বাস্তব উন্নতি আনতে এবং আরও শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করতে পারবে কিনা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment