২০২৩ সালে সামরিক বাহিনী এবং আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সরকার পোর্ট সুদানে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিল। গত মার্চ মাসে সেনাবাহিনী খার্তুমে রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।
বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘর্ষে খার্তুমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সংঘাতের চরম শিখরে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। যারা রয়ে গিয়েছিল তারা আরএসএফ যোদ্ধাদের দ্বারা ব্যাপক লুটপাট এবং বেসামরিক বাড়িঘর দখলের কথা জানিয়েছে। শহরের বড় অংশ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তা উগোচি ড্যানিয়েল অক্টোবরে মৌলিক পরিষেবাগুলোকে "প্রায় অকার্যকর" বলে বর্ণনা করেছেন।
সরকারের প্রত্যাবর্তন খার্তুমে পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠনের দিকে একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রধানমন্ত্রী ইদ্রিস প্রত্যাবর্তনকারী প্রশাসনকে "আশার সরকার" হিসাবে উল্লেখ করেছেন, যা অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের উপর মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সরকার কী কী নীতি ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সুদানের সামরিক বাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে সংঘাতের ফলে একটি জটিল এবং অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ক্ষমতার এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে আরএসএফকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করা নিয়ে মতবিরোধ। এই লড়াই শুধু খার্তুমকে বিধ্বস্ত করেনি, সুদানের অন্যান্য অঞ্চলকেও প্রভাবিত করেছে, যার ফলে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং দেশটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সক্ষমতা এখনও অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment