মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছেন। এই পদক্ষেপটি আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের নতুন রূপ নাকি এটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার প্রশাসন এখন ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে রয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটির তেল মজুদ ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি অন্যান্য দেশে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন।
ভেনেজুয়েলার এই অভিযানে কোনো আমেরিকান হতাহত না হলেও ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার কয়েকজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা প্রশংসা ও নিন্দা উভয়ই আকর্ষণ করেছে। এই অভিযানের সমর্থকরা বলছেন, অঞ্চলটিকে স্থিতিশীল করতে এবং আমেরিকান স্বার্থ রক্ষায় এটি প্রয়োজনীয় ছিল। তবে সমালোচকরা এটিকে আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, "এটি সাম্রাজ্যবাদ নয়। এটি আমাদের গোলার্ধে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং স্বৈরাচার ছড়ানো বন্ধ করার বিষয়।"
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এই হস্তক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এলেনা রামিরেজ বলেন, "এটি একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করলো। এটি অন্যান্য দেশকেও অনুরূপ আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করতে পারে, যা একটি আরও অস্থির বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করবে।"
ভেনেজুয়েলার প্রতি মার্কিন সরকারের নীতি বছরের পর বছর ধরে বিতর্কিত, যা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে চিহ্নিত। সাম্প্রতিক সামরিক হস্তক্ষেপ এই নীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে, তবে মাদুরোর অনুগতদের প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভক্ত, কিছু দেশ মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন করছে এবং অন্যরা সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং বিশ্ব স্থিতিশীলতার উপর এই হস্তক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও দেখার বাকি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment